বাণিজ্য ডেস্ক :
আমদানি কমের অজুহাতে হিলি স্থলবন্দরে বেড়েছে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম। দুই দিনের ব্যবধানে টন প্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। এদিকে হঠাৎই পেঁয়াজের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে হিলি স্থলবন্দরে গিয়ে দেখা যায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ভারতীয় পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাকগুলো। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় আমদানি কম হলেও বন্দরে পেঁয়াজ নিতে আসা পাইকারদের সংখ্যা অনেকটাই বেশি।
বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, প্রতিদিন হিলি স্থলবন্দর থেকে দুই থেকে চার ট্রাক পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠাই। আজকেও আসছি বন্দরে পেঁয়াজ নেব ভেবে, কিন্তু কীভাবে পেঁয়াজ নেব? ভেবেই পাচ্ছি না। কালকে ছিল এক দাম, আজকে আরেক দাম। এভাবে যদি বাড়তে থাকে তাহলে তো মুসকিল।
আরেক পাইকার শরিফুল ইসলাম বলেন, হিলি স্থলবন্দর থেকে আমরা প্রতিদিন পেঁয়াজ কিনি। ইন্দ্র জাতের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা। টন প্রতি বেড়েছে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। চলতি সপ্তাহের শনিবারে ইন্দ্র জাতের যে পেঁয়াজ কিনেছি ২৫ টাকা রোববার ছিল ২৭ টাকা অথচ আজ মঙ্গলবার সেই একই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৩১ টাকায়।
বন্দরের আরেক পাইকার সেলিম জানান, হিলি বন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে ঢাকা, ময়মনসিংহ, গৌরীপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন মোকামে পাঠায়। হিলি বন্দরের পেঁয়াজের দামের যে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে। চাইলেও বেশি পেঁয়াজ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। দাম বৃদ্ধির কারণে দুই ট্রাক পেঁয়াজ নিয়েছি।
পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় এলসি অনেকটাই কমে গেছে। এলসি না পাওয়ার কারণে আমদানি কমেছে। অনেক আমদানিকারক এলসি করতে পারছে না। তবে দুই একটা ব্যাংক থেকে এলসি করছি শতভাগ মার্জিনে। এতে খরচও বেড়েছে। যার কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।
আরেক আমদানিকারক বলেন, ব্যাংকগুলোতো এলসি দিচ্ছে না, নিরুৎসাহিত করছে এলসি করতে। তার পরেও বেশি খরচে এলসি করছি শুধুমাত্র ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য। পেঁয়াজ অধিকাংশ বিক্রি হয় বাঁকিতে। মোকামগুলোতে অনেক টাকা আমাদের পড়ে আছে যদি পেঁয়াজ আমদানি না করি তাহলে টাকাগুলো উঠাবো কিভাবে? যার কারণ পেঁয়াজ আমদানি করছি।
কাস্টমসের তথ্য মতে, চলতি সপ্তাহে গেল ৪ দিনে ভারতীয় ৩৭ ট্রাকে এক হাজার ৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে এ বন্দর দিয়ে।
