আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
কয়েক মাস আগে যাত্রা শুরু আয়ারল্যান্ড গলওয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটির। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এবার প্রবাসে স্থানীয় বাংলাদেশিদের বিভিন্ন আয়োজন ও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য নিজস্ব অফিস ও কমিউনিটি সেন্টার নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তারা। এ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) রাত ৯ টায় গলওয়ে প্লেট রেস্টুরেন্টে একটি সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা।
সভায় কমিউনিটি কমিটির সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাংলাদেশিরা। সভায় সকলে অফিস ও কমিউনিটি সেন্টার নেয়া সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন। সব বক্তা একটি কমিউনিটি সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একমত হন। গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় বক্তব্য রাখেন জহির উদ্দিন জহির, জামাল বাসির, মো. জসিম, সোহেল রানা, এ কেএম রাশেদ, তামিম মজুমদার, অপু, মো. বারী, মো. জসীমউদ্দিন, আব্দুল লতিফসহ আরও অনেকে। জসিম দেওয়ানের সভাপতিত্বে পুরো সভাটি পরিচালনা করেন সোহরাব হোসেন।
প্রবাসে স্থানীয় বাংলাদেশিদের যে কোনো আয়োজন করতে হলে হোটেল বা কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে করতে হয়। এগুলোর ভাড়াও নেহাৎ কম নয়। অনেক সময় খুব সহজে জায়গা পাওয়াও যায় না। এ থেকে উত্তরণের জন্য গলওয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটি পাঁচ বছর মেয়াদি লিজ নিয়ে কমিউনিটির সেবার জন্য একটি কমিউনিটি সেন্টার নেয়ার পরিকল্পনা করে। এ কমিউনিটি সেন্টারে থাকবে এখানে বেড়ে ওঠা ছেলেমেয়েদের জন্য খেলাধুলা, বিশেষ করে টেবিল টেনিস, ক্যারাম, দাবা ইত্যাদি খেলার ব্যবস্থা। দেশীয় আয়োজনে প্রায় দুইশো মানুষ একত্রিত হতে পারবেন এখানে। মুসলিম সম্প্রদায়ের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে নারীদের জন্য থাকবে আলাদা বসার ব্যবস্থা।
কমিউনিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, এ কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিতে প্রতিমাসে এক হাজার দুইশো ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় এক লাখ বিশ হাজার টাকা) খরচ হবে। ভাড়ার টাকা কোথা থেকে আসবে সভায় এমন প্রশ্ন ছিলো অনেকের। সবার বক্তব্য শেষে কমিউনিটির সভাপতি জসিম দেওয়ান কমিউনিটি সেন্টারের গুরুত্ব ও ভাড়ার অর্থ বিষয়ে বিবরণ দেন। কমিউনিটি সেন্টারের যে ভাড়া, তার অর্ধেক তিনি নিজেই দেয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়াও কমিউনিটি সেন্টারের সংস্কারের অর্থও তিনি নিজে বহন করবেন বলে জানান উপস্থিত বাংলাদেশিদের।
এ কমিউনিটি সেন্টারটি হলে এটিই হবে আয়ারল্যান্ডে প্রথম কোনো বাংলাদেশি কমিউনিটির নিজস্ব অফিস ও কমিউনিটি সেন্টার। জানা যায়, গলওয়ের লিসবনে যে স্থানটি নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে সেটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী সভায়।
