কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ২ মাস ধরে প্রায় ৭শত জন্ম নিবন্ধনের সংশোধন আবেদন ঝুলে আছে। দীর্ঘ মেয়াদী ঝুলে থাকা এ জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদনে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশি বলে জানা গেছে। সময় মত জন্ম নিবন্ধনের সংশোধন করতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী দিতে পারেনি করোনা টিকা। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে অতি জরুরী হলেও সময় মত অভিভাবকেরা দিতে পারছেন না তাদের সন্তানদের জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে। তাই এক প্রকার চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে জন্ম নিবন্ধন করতে আসা লোকজনের মাঝে।
ভুক্তভোগী রীতা রানী শীল বলেন, আমি জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজী করতে এসে দেখি আমার জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে নেই। নতুন করে আমার জন্ম নিবন্ধন করতে জাতীয় পরিচয় পত্র লাগবে। আমি তো জাতীয় পরিচয় পত্র এখনো করিনি।
রোমান মিয়া নামের এসএসসি পরীক্ষার্থীর মা বলেন, জরুরী ভাবে আমার ছেলের জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে জমা দিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বলা হচ্ছে এটা সংশোধন হয়ে আসতে সময় লাগবে। কত সময় লাগবে সঠিক ভাবে তারা কিছুই বলতে পারছেনা।
রিমা আক্তার বলেন, আমি আবেদন করে রেখেছি ১ মাস হয়। জরুরী ভাবে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন করেও ইউনিয়ন পরিষদে এসে আমি আমার জন্ম নিবন্ধন হাতে পাচ্ছিনা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বলা হচ্ছে আবেদনটি উপজেলায় পেন্ডিং হয়ে আছে।
জন্ম নিবন্ধন জটিলতা নিয়ে কথা হয় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ উদ্যোক্তা সহ ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদ উদ্যোক্তা মোঃ বাকি বিল্লা’র সাথে। তিনি বলেন, প্রায় ২ মাস ধরে বিভিন্ন আবেদন পেন্ডিং হয়ে আছে। ৭শত আবেদনের মত এখনো পেন্ডিং আছে এ উপজেলাতে। পেন্ডিং থাকায় বিভিন্ন গ্রামের মানুষ তাদের সন্তানদের জন্ম নিবন্ধন আবেদন সংশোধন করে বিদ্যালয়ে জমা দিতে পারছেনা। জন্ম নিবন্ধন নিতে এসে লোকজন জন্ম নিবন্ধন না পেয়ে কটু কথা শুনিয়ে যাচ্ছে আমাদের।
এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম লুনা বলেন, আমি ৩ মাস হয় নতুন এসেছি। অনেক দিন ধরে এ কাজগুলো পেন্ডিং ছিলো। ৬টি ইউনিয়ন, প্রতিদিন আমি এক- দেড়শত কাজ করছি। দিনের বেলা নেটওয়ার্ক স্লো থাকে, সার্ভার সমস্যা করে, বিদ্যুৎ থাকেনা। এ কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। যতটুকু পারছি আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি কাজ শেষ করার।
