মোস্তফা কামাল, নড়াইল অফিস :
“অন্ধকার থেকে মুক্ত করুক একুশের আলো” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্যদিয়ে নড়াইলবাসী স্মরন করলো ৫২’র ভাষা শহীদদের। প্রতিবছরের ন্যায় ২১ ফেব্রয়ারি সন্ধ্যায় নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ কুড়িরডোব মাঠে আয়োজন করা হয়। একুশের আলো নড়াইলের আয়োজনে শহরের কুড়িরডোব মাঠে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
এ সময় হাজারো দর্শদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে কুড়িরডোব মাঠ। ধর্ম বর্ণ ধনী গরীবের ভেদাভেদ ভুলে সকলে মেতে ওঠবে আনন্দে।
ঢাকা,বাগেরহাট, যশোর, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, সাতক্ষিরা, খুলনা, মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দর্শকরা নয়নাভিরাম এ দৃশ্য দেখে তাদের নয়ন জুড়ায়।
এইদিন সকাল থেকে স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ মাঠকে বিভিন্ন আল্পনা দিয়ে সাজাচ্ছেন বিকালের মধ্যেই মঙ্গল প্রদীপ ও মোমবাতি দিয়ে নিপুন হাতের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছেন তারা।
আয়োজকরা জানান, নড়াইল একুশ উদযাপন পর্ষদ এর আয়োজনে ভাষা শহীদদের স্মরণে ১৯৯৭ সালে নড়াইলে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন শুরু হয়। প্রথম বছরে ১০ হাজার মোমবাতি জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হলেও প্রতিবছর এর ব্যপ্তি বেড়েছে।
প্রতি বছরের মত মোমবাতির আলোয় দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে চারিদিক। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারসহ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় করেন আয়োজকরা। সন্ধ্যার পরপরই মোমবাতির আলোতে আলোকিত হয়ে উঠে বিশালাকৃতির এ মাঠ। মোমবাতির আলোর মাধ্যমে শহীদ বেদী, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বাংলা বর্ণমালা, আল্পনা ও পাখিসহ গ্রাম-বাংলার নানা ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।
বিশাল এই আয়োজন দেখতে প্রতিবারের ন্যায় এবছরও দুর-দুরান্ত থেকে হাজারো মানুষ নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ খেলার মাঠে এসে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন উপভোগ করে।
সন্ধ্যায় কুরিরডোব মাঠের লাখো মোমবাতি একসাথে জ্বলে উঠে সেই সাথে ‘আমার ভায়ের রক্ত রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি’ এই গানের মধ্য দিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের গণসংগীত গায়তে শুরু করে। এই গান পরিবেশনের সাথে সাথে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ রবিউল ইসলাম, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক, মাশরাফি বিন মর্তুজার পিতা গোলাম মর্তুজা স্বপন, একুশের আলো সদস্য সচিব ও নাট্য ব্যক্তিত্ব কচি খন্দকার অনলাইনে যুক্ত ছিলেন , সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শওকত কবিরসহ সংশ্লিষ্টরা। ঘন্টা ব্যাপী এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন হাজার হাজার দর্শক।
