নিউজ ডেস্ক:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কি খুব শিগগিরই মানুষের চিন্তাশক্তিকে ছাপিয়ে যাবে? ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে এমনই এক ভবিষ্যৎচিত্র তুলে ধরেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তার মতে, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যেই এআই মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে যা প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ যেকোনো মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মানবজাতির সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যাবে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে মাস্ক বলেন, এআই-এর উন্নতি এত দ্রুত হচ্ছে যে এই বছর শেষে এমন একটি এআই দেখা যেতে পারে যা যেকোনো মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমত্তায় এগিয়ে থাকবে।।
এআই ও রোবটিকস খাতে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক বিস্তার ঘটতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের শেষ নাগাদ সাধারণ মানুষের জন্য হিউম্যানয়েড রোবট বিক্রি শুরু করার কথাও জানিয়েছেন ইলন মাস্ক।
মাস্কের ভাষায়, বয়স্ক বাবা–মায়ের দেখাশোনা ও সন্তানদের খেয়াল রাখার জন্য পৃথিবীর প্রায় সবাই একটি রোবট চাইবে। তিনি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, ‘রোবটটি যদি একেবারেই নিরাপদ হয়, তাহলে কে না চাইবে—যে আপনার বাচ্চাদের দেখভাল করবে, পোষা প্রাণীর যত্ন নেবে স্বয়ংক্রিয় রোবট?’
তিনি বলেন, ‘আমরা এত বেশি রোবট ও এআই তৈরি করবো যা মানুষের চাহিদা পূরণে সবার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়বে। আমার অনুমান এক সময় মানুষের চেয়েও বেশি রোবট থাকবে।’
দাভোসে মাস্কের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে আসছেন। তিনি এই বার্ষিক সম্মেলনকে ‘এলিটদের ক্লাব’, ‘জবাবদিহিহীন’ এবং ‘সাধারণ মানুষের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন’ বলে আখ্যা দিয়ে আসছিলেন।
সূত্র: এনডিটিভি
