হোম আন্তর্জাতিক হিজাব বিতর্ক: আমানপোরকে সাক্ষাৎকার দিলেন না রাইসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানে বড় আকারের বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভের প্রধান কারণ হিজাব আইন। আইনটি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরমধ্যেই হিজাব ইস্যুতে সিএনএনের এক নারী সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

ঠিকভাবে হিজাব না পরায় ইরানে পুলিশি হেফাজতে মাহশা আমিনি নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর পরই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ইরান। এরমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি।

সফরকালে অধিবেশনের ফাকে গত বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সিএনএনকে একটি সাক্ষাৎকার দেয়ার কথা ছিল তার। সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা খ্যাতনামা নারাী সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরকে সাক্ষাৎকার দেননি রাইসি।

কারণটি নিজেই জানিয়েছেন আমানপোর। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাকে সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুত ছিলেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে এসে প্রেসিডেন্টের এক সহযোগী আমানপোরকে জানান, প্রেসিডেন্ট তাকে (আমানপোরকে) হিজাব দিয়ে তার চুলগুলো ঢাকার অনুরোধ করেছেন।

কিন্ত প্রেসিডেন্ট রাইসির এ অনুরোধ রাখতে অস্বীকার করেন আমানপোর। তিনি বলেছেন, ‘আমি বিনয়ের সঙ্গে (হিজাব পরতে) অস্বীকার করেছি। আমরা এখন নিউইয়র্কে রয়েছি। আর এখানে হিজার পরার কোনো আইন কিংবা ঐতিহ্য নেই।’ আমানপোরের জন্ম যুক্তরাজ্যে এক ইরানি পরিবারে। তবে তিনি বড় হয়েছেন ইরানের রাজধানী তেহরানে। ফারসি ভাষাতেও খুবই সাবলীল তিনি।

আমানপোর আরও বলেন, ইরান থেকে রিপোর্ট করার সময় দেশটির আইন ও প্রথা মেনে হিজাব পরতেন তিনি। তবে ইরানের বাইরে কোনো ইরানি কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিতে তিনি হিজাব পরেননি। তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের বাইরে এর আগেও দেশটির প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। কিন্তু কোনো প্রেসিডেন্টই এ ধরনের অনুরোধ কখনো করেননি।’

প্রেসিডেন্ট রাইসির পক্ষ থেকে হিজাব পরার অনুরোধকে ‘নজিরবিহীন ও অপ্রত্যাশিত শর্ত’ বলে উল্লেখ করেন আমানপোর। তিনি বলেন, ‘আমি সিএনএন, আমার ও সব নারী সাংবাদিকের পক্ষ থেকে খুবই বিনয়ের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট রাইসির অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে। কারণ এটা (হিজাব) কোনো প্রয়োজনীয় বিষয় নয়।’

এক টুইটার বার্তায় একটি ছবিও পোস্ট করেছেন আমানপোর। তাতে দেখা যাচ্ছে, সামনাসামনি দুটো চেয়ার। একটাতে বসা আমানপোর। তার মাথার চুল খোলা। সামনের চেয়ার খালি। যেখানে বসে সাক্ষাৎকার দেয়ার কথা ছিল রাইসির। আলাদা এক টুইটার বার্তায় এই সাংবাদিক আরও বলেন, ইরানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট রাইসির সঙ্গে কথা বলার একটা ভালো সময় ছিল।’

গত সপ্তাহে ঠিকমতো হিজাব না পরার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনিকে গ্রেফতার করে ইরানের পুলিশ। পরে পুলিশি হেফাজতেই মাহসার মৃত্যু হয়। তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রেফতার হওয়ার পর মাহসা ‘হৃদরোগে’ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। ন্যায়বিচার দাবি করে দেশটির অন্তত ৫০টি শহরে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। অনেক সরকারি ভবন এবং পুলিশ স্টেশনে আগুন লাগানোর খবর জানিয়েছে সরকার। এক সপ্তাহ ধরে চলা এ বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আটক করা হয়েছে অন্তত এক হাজার বিক্ষোভকারীকে।

এদিকে পাল্টা কর্মসূচি শুরু করেছে দেশটির সরকারপন্থিরা। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাস্তায় জড়ো হয়ে হিজাব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের ফাঁসি দেয়ার দাবি তোলেন তারা। সরকারবিরোধীরা মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলেও দাবি তাদের।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন