জাতীয় ডেস্ক :
উচ্চ আদালতের এক আদেশে ১০ মাস পর নিজের স্ত্রীকে ফিরে পেয়েছেন রংপুরের বদরগঞ্জের তরুণ শ্যাম সুন্দর। তার স্ত্রী হেমা শর্মা বিয়ের পরদিন থেকে মা ও মামাদের হাতে বন্দি অবস্থায় নির্যাতিত হয়ে আসছিলেন। পরে স্ত্রীকে ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন শ্যাম সুন্দর।
রোববার (১৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এক রিটের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
শ্যাম সুন্দর রায় ও হেমা শর্মার একে অপরের প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। সম্পর্কের একপর্যায়ে ছেলের পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে মেয়ের পরিবার রাজি হয়নি। এজন্য পরিবারের অমতে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি হেমা শর্মাকে অন্যত্র নিয়ে বিয়ে করেন শ্যাম সুন্দর রায়। তবে মেয়ের পরিবার এ বিয়েতে আপত্তি জানান। মেয়ের বয়স ১৮ অর্থাৎ নাবালিকা উল্লেখ করে পুলিশের মাধ্যমে মেয়েকে ফিরিয়ে নেন বাবা রাকেশ শর্মা। মেয়েকে আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে লুকিয়ে রাখায় স্ত্রীকে ফিরে পেতে হাইকোর্টে দ্বারস্থ শ্যাম সুন্দর। গত ৩১ অক্টোবর আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি।
শ্যাম সুন্দর রায়ের আবেদন আমলে নিয়ে আদালত হেমা শর্মাকে সশরীরে হাজির করতে রংপুরের পুলিশকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১৩ নভেম্বর) হেমা শর্মাকে হাইকোর্টে হাজির করে পুলিশ। এদিন বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ হেমা শর্মাকে স্বামী শ্যাম সুন্দর রায়ের সঙ্গে থাকার নির্দেশ দেন। একসঙ্গে থাকার ক্ষেত্রে কোন বাধা না থাকায় এবং আদালতের এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন এই দম্পতি।
শ্যাম সুন্দর রায়ের (২৪) বদরগঞ্জ পৌর শহরের মাস্টারপাড়া গ্রামের দীজেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে। আর হেমা শর্মা একই উপজেলার পৌর শহরের পুরাতনবাজার এলাকার রাকেশ শর্মার মেয়ে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শ্যাম সুন্দর রায় সময় সংবাদকে বলেন, দীর্ঘদিন পরে আদালতের নির্দেশে স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ায় ভীষণ খুশি হয়েছি। হাইকোর্টে আমি ন্যায্য বিচার পেয়েছি। এ জন্য আমাকে অনেক কষ্ট ও ধৈর্য ধরতে হয়েছে।
একই অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন হেমা শর্মাও। তিনি বলেন, আদালতের মাধ্যমে স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পেরেছি, এর চেয়ে খুশির আর কিছু নেই।
শ্যাম সুন্দরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মেয়ের পরিবার বেশ বিত্তশালী হওয়ায় এই সম্পর্ক তারা মেনে নিতে পারেননি। তাদের বিয়ের খবর জানার পর হেমার বাবা মেয়েকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে শ্যাম সুন্দর রায়ের বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগ দেন। মামলার পর পুলিশ হেমাকে স্বামীর বাড়ি থেকে তুলে এনে তার বাবার হাতে তুলে দেয়।
শ্যাম সুন্দর রায়ের মামা অরূপ রায় বলেন, মেয়েটি হাইকোর্টকে বলেছে, সে শ্যাম সুন্দরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর পুলিশ তাকে আটক করে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়। এরপর তাকে বদরগঞ্জ পৌর শহরের তার মামা গণেশ শর্মার বাড়িতে আটকে রেখেছিলেন। সে স্বামী শ্যাম সুন্দরের কাছে যেতে চাইলে হাইকোর্ট তার হাতে তুলে দেন।
