জাতীয় ডেস্ক :
স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলক বিজয় কিবোর্ড থাকা নিয়ে বির্তক যেন থামছেই না। বিটিআরসির এ সিদ্ধান্তকে গ্রাহক স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।
সম্প্রতি সময় সংবাদকে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে বিটিআরসিকে আল্টিমেটাম দিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সাত দিনের মধ্যে তাদের জবাব আশা করছি, তারা সুনির্দিষ্ট জবাব দেবে, যদি তারা ন্যায়সঙ্গত জবাব দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে।
গুগলের নানা বাধ্যবাধকতা থাকায় এ মুহূর্তে বিজয় কীবোর্ড ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোবাইল উৎপাদকরাও। এদিকে বিতর্ক যতই হোক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
স্মার্টফোনে লেখার জন্য গুগল প্লে স্টোরে রয়েছে নানা ধরনের অ্যাপ কিংবা লে-আউট। গুগলে টেক্সট টু স্পিস অন করলে কথা বললেই লেখা হয়ে যায়। এ অবস্থায় গত ১৩ জানুয়ারি মুঠোফোন উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের চিঠি দিয়ে সব অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে বিজয় কিবোর্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কথা জানায় বিটিআরসি। বাজারজাতকরণের আগে বিজয় কিবোর্ড এপিকে ফাইল ইনস্টল না করলে বিক্রির অনাপত্তি না দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন মহলে চলছে নানা সমালোচনা।
হ্যান্ডসেট উৎপাদকরা বলছেন, বিটিআরসি বিনামূল্যে বিজয় এপিকে ফাইল দিলেও তা স্মার্টফোন অন্তর্ভুক্ত বা ইনস্টল করতে গুগলের অনুমতি নিতে হবে। দিতে হবে ফিও। যা গ্রাহকদের ওপরই পড়বে। তাই এই মুহূর্তে বিজয় ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিটিআরসিকে পাল্টা চিঠি দেয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
ট্রানশান বাংলাদেশে লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজোয়ানুল হক বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে বিটিআরসিকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে যে, আমাদেরকে সময় দেয়া হোক, আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হোক যে, এটাকে কোনোভাবে বাদ দেয়া যায় কিনা বা চিন্তা ভাবনা করে সময় নিয়ে প্রযোগ করা যায় কিনা।
আর এ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, মোস্তাফা জব্বার মন্ত্রী হয়ে যদি অপরাধ করে থাকে, এটা হয়ে গেছে। কিন্তু আমি এটাকে বাধ্যও করিনি, আমি সরকারের নির্দেশ মান্য করে যারা উৎপাদক এবং আমদানিকারক তাদেরকে বলেছি যে, এটা তোমাদের মোবাইল সেটে থাকতে হবে। ব্যবহারকারীর জন্য এটা বাধ্যতামূলক নয়।
সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বিজয় কিবোর্ড আবিষ্কারক খোদ ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তার প্রতিষ্ঠিত আনন্দ কম্পিউটার্স বিজয় কিবোর্ড সরবরাহ করে আসছে।
