জাতীয় ডেস্ক :
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ‘স্বপ্নাদেশ’ পেয়ে চার মাসের পুত্র সন্তানকে হত্যা করে উধাও হয়েছেন মা পলি বেগম। নিহত শিশুর নাম জুবায়ের আহম্মেদ তালুকদার।
শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বড়দুলালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুর লাশ রোববার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহত শিশু জুবায়ের ওই গ্রামের সাগির তালুকদারের ছেলে। মা ছালেহা বেগম পলিকে (৩৭) পুলিশ ও স্বজনরা খুঁজে পাচ্ছেন না।
নিহতের বাবা গরুর খামারি সাগির তালুকদার জানান, তিনি তিন ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে ছোট ছেলে জুবায়ের আহম্মেদকে নিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী পলি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সোয়া ১১টার দিকে তিনি জেগে স্ত্রী ও ছেলেকে বিছানায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেন।
‘পরে গরুর ঘরের পাশে বড় বালতির মুখ একটি গামলা দিয়ে ঢাকা দেখতে পান। তখন ওই বালতির মুখের গামলা সরিয়ে ফেললে দেখতে পান, পানি ভর্তি বালতির মধ্যে জুবায়েরের মাথা নিচে ও পা দুটো ওপরের দিকে। পরে বালতির ভেতর থেকে জুবায়েরের মৃতদেহ উদ্ধার করেন তারা।’
সাগিরের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পলির সন্ধান পাননি।
সাগির আরও বলেন, ছেলে জুবায়ের আহেম্মদ জন্মের পর থেকে তার স্ত্রী পলি স্বপ্নাদেশ পেয়ে খাসি ছাদগাহ্ ও মনসা মন্দিরে দুধ কলা দেয়। এর পর তার স্ত্রী প্রায়ই স্বপ্নাদেশ পেয়ে ঘুমের ঘরে চিৎকার করে উঠতো। এর পর থেকে পলি আমাদের কাছে স্বপ্নাদেশের কথা বলতো, তাকে (পলি) সাপ ধাওয়া করে আঁকড়ে ধরেছে।
সাগির আরও জানান, তার স্ত্রী পলি স্বপ্নাদেশ পেয়ে প্রায়ই বলে আসছিলেন জুবায়ের বেঁচে থাকলে সংসারে শান্তি হবে না। এমনকি দুই সন্তানকে আছড়ে মেরে ফেলবে।
নিহতের বড় বোন সাগরিকা বেগম (২০) জানান, তার ছোট ভাই জুবায়ের জন্মের পর থেকেই তার মা প্রায় স্বপ্নাদেশ পেয়ে আবোল তাবোল বলতেন। এ জন্য তাকে (পলি) অনেক ঝাড়ফুঁক দেওয়া হয়েছে।
গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, চার মাস বয়সের শিশু জুবায়ের আহম্মেদের লাশ রাতেই উদ্ধার করা হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রোববার দুপুর দেড়টার দিকে শেবাচিম মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। ঘাতক মাকে গ্রেপ্তারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি আফজাল হোসেন।
