খেলাধূলা ডেস্ক :
বল হাতে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে দিন কাটিয়েছেন শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। ৩ ওভার বল করে উইকেটশূন্য থেকে তিনি খরচ করেছেন ৫৩ রান। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে টেস্ট মেজাজে ব্যাট করে দলকে চাপে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তবে মার্কাস স্টইনিসের ঝোড়ো ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে অস্ট্রেলিয়া।
পার্থে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) শ্রীলঙ্কার দেয়া ১৫৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৬.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অজিরা। ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে ১৮ বলে ৫৯ রান করে অপরাজিত থাকেন মার্কাস স্টইনিস। তার ইনিংস থেকে ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে আসে ৬টি ছক্কার মার।
৪২ বল মোকাবিলায় মাত্র একটি ছক্কার মারে ৭৩.৮০ স্ট্রাইকরেটে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন ফিঞ্চ। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এমন বাজে ব্যাটিং কখনো হয়তো মনে রাখতে চাইবেন না অজি অধিনায়ক। শ্রীলঙ্কার পক্ষে হাসারাঙ্গা বাদে সবাই আক্রমণে এসে ধুঁকিয়েছেন অজি ব্যাটারদের। একটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, চামিরা করুনারত্নে ও মাহেশ থিকশানা।
এর আগে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। ১০ বলে ১১ রান করে মাহেশ থিকশানার বলে মিডউইকেটে ধরা পড়েন ডেভিড ওয়ার্নার। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অ্যারন ফিঞ্চ ও মিচেল মার্শ টি-টোয়েন্টির মেজাজ হারিয়ে খেলতে থাকেন টেস্ট মেজাজে। তাদের ওপর চাপ বাড়াতে থাকেন মাহেশ থিকশানা ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভারা। যদিও ইনিংসের সপ্তম ওভারে ধনাঞ্জয়ার বলে মিচেল মার্শের তুলে দেয়া ক্যাচ মিস করে অজিদের হাফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ করে দেন লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা।
আর তাতে ৭ ওভারে ৩৮ রান করা অজিরা পরের ওভারেই মারমুখো হয়ে ওঠেন। অ্যারন ফিঞ্চ ও মিচেল মার্শ মিলে আক্রমণে আসা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার অষ্টম ওভারে তুলে নেন ১৫ রান। আগের ওভারের আক্ষেপ মিটিয়ে নবম ওভারে আক্রমণে এসে মার্শের উইকেট তুলে নেন ধনাঞ্জয়া। ওভার বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে লং অফে মার্শ ধরা পড়েন ভানুকা রাজাপাকসের হাতে। ১৭ বলে সমান এক ছয় ও চারের মারে ১৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন মার্শ।
ফিঞ্চকে সঙ্গ দিতে নামা ম্যাক্সওয়েল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং উপহার দেন। আর তাতে ১০ ওভারে তাদের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ৮৫ রানে। দ্বাদশ ওভারের প্রথম বলে ফিঞ্চকে জীবন উপহার দেন মিডউইকেটের ফিল্ডার বানদারা। পরের বলেই ডিপ মিডউইকেটে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন ম্যাক্সওয়েল। এবার আর বোলার চামিকা করুনারত্নকে হতাশ করেননি বদলি হিসেবে নামা বানদারা। ঠিক বাউন্ডারি লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে এক পায়ের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দারুণভাবে বল তালুবন্দি করে নেন তিনি। সমান ২ চার ও ছয়ে ১২ বলে ২৩ রান করেন ম্যাক্সওয়েল।
টেস্ট মেজাজে ব্যাট করে ফিঞ্চ যখন দলের চাপ বাড়াচ্ছিলেন তখন ব্যাট হাতে এসে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন মার্কাস স্টইনিস। ইনিংসের ১৫তম ওভারে আক্রমণে আসা হাসারাঙ্গার ওভারে তুলে নেন ১৮ রান। পরের ওভারে থিকশানাকে হাঁকান তিনটি ওভার বাউন্ডারি। রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে ১৭ বলে ৫ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি হাঁকিয়ে নেন এ পেস বোলিং অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।
এ জয়ের ফলে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল অজিরা। দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘২’ এর পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান এখন চারে। প্রথম ম্যাচে অজিদের ৮৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শীর্ষস্থান দখলে রেখেছে নিউজিল্যান্ড।
