হোম আন্তর্জাতিক সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) একজন শীর্ষ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন। খবরটি নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

বুধবার (২০ এপ্রিল) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে, আইআরজিসি-র নৌ ইউনিটের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি বলেছেন, আমেরিকানরা ইরানকে বার্তা পাঠাচ্ছে, জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ত্যাগ করতে বলেছে। বিনিময়ে, তারা ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি এটিকে ‘ইচ্ছাকৃত চিন্তা’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইসলামিক বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনিকে উদ্ধৃত করে জেনারেল সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে ‘বিচারের আওতায় আনা হবে’ বলে তাংসিরি বলেন: ‘ঈশ্বরের ইচ্ছায় তারা অবশ্যই এই পৃথিবীতে তাদের নোংরা কাজের জন্য শাস্তি পাবে।’

এর আগে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’র অংশ হিসেবেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান বিক্রিও এই ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’র অংশ বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ইরানের রাজধানী বাগদাদের একটি বন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় নিহত হন দেশটির সাবেক শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। যিনি ছিলেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের তৎকালীন কমান্ডার। তার মৃত্যুতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানের সাধারণ মানুষ। তার মৃত্যুর পর ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাগদাদে কূটনৈতিক মিশনে থাকাকালীন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর ওয়াশিংটন ও ইরানের সম্পর্ক অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে খারাপ অবস্থায় চলে যায়।

সোলাইমানির মৃত্যুর পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‌‌‌’বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী’কে অনেক আগেই শেষ করে দেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এর আগে ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি সাবেক এই জেনারেলের হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল দেশটি। এ বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল ইরানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আইন বিভাগ। চিঠিতে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার জন্য একটি রেজ্যুলেশন জারি করে যুক্তরাষ্ট্রকে নিন্দা ও ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নিরুৎসাহিত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন