হোম খুলনাসাতক্ষীরা সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ধরার অভিযোগে আট জেলে আটক

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ধরার অভিযোগে আট জেলে আটক

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 51 ভিউজ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের নিষিদ্ধ ঘোষিত অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ধরার অভিযোগে আট জেলেকে আটক করেছে বনবিভাগের সদস্যরা। শনিবার রাতে ও রোববার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদেরকে সুন্দরবনের হলদেবুনিয়া, ছায়ানদী ও আমড়াতলী থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি নৌকা, এক হাজার ফুটেরও বেশী দড়ি-বড়শীসহ আনুমানিক ৩০ কেজি সাদা মাছ জব্দ করা হয়। এদিকে, জেলে আটকের ঘটনায় স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী বনকর্মীদের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আটককৃত জেলেরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার কালিঞ্চি গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪২), আজগর আলী (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৪), চিংড়িখালী গ্রামের নুর ইসলাম (৪৭), কৈখালী গ্রামের আব্দুস সালাম (৫৫), আব্দুল জলিল সরদার (৫৪), মনতেজ আলী (৭০) ও সাহেবখালী গ্রামের ইসমাইল সরদার (৫৬)।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত অভয়ারণ্য এলাকায় কয়েকজন জেলে মাছ শিকার করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জা সহকারী বনসংরক্ষক মোঃ ফজলুল হকের নেতৃত্বে বনবিভাগের সদস্যরা শনিবার রাতে ও রবিবার দিনভর সুন্দরবনের হলদেবুনিয়া, ছায়ানদী ও আমড়াতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত আট জেলেকে আটক করেন।
বনবিভাগের হলদেবুনিয়া টহলফাঁড়ির ইনচার্জ তানভীর হোসেন জানান, অভয়ারণ্য থেকে জেলেদের আটক করে মুন্সিগঞ্জে নেয়ার পর থেকে মুটোফোনে কল দিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। শুরুতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজগর আলী বুলু হুমকি দেয়ার পর আরও কয়েকজন নিজেদের সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে রীতিমত তাদের শাসিয়েছেন বলে তিনি আরো জানান।
তবে, অভিযোগের বিষয়ে আজগর আলী বুলু জানান, তার এলাকার কয়েকজন জেলে আটক হয়েছে। আটক জেলেদের স্বজনদের অনুরোধে তিনি ফোন করলেও কোন হুমকি দেননি। তবে কয়েকজন সাংবাদিক অভয়ারণ্যে নৌকা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি না পেয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানতে পেরেছেন।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জা সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ ফজলুল হক জানান, অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশকারী বনজীবিসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত অভয়ারণ্যে যাওয়া জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু ব্যক্তি বনকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া গুটিকয়েক ব্যক্তি অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পেরে নানাভাবে বনবিভাগকে টার্গেট করে মিথ্যা প্রচারনা চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিতে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে পরামর্শ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন