হোম ফিচার সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের দুই চিকিৎসকের দূর্ণীতি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত ১০ আগস্ট

সংকল্প ডেস্ক :

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: রুহুল কুদ্দুস ও অধ্যাপক ডা: কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগামী ১০ আগস্ট ২২ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ কার্যালয়ে তদন্তে আসবেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি টীম।

গত ৩১ জুলাই ২২ ৫৯.০০.০০০.১০৮.৯৯.০০১.২২-৬৪ নং স্মারকে যুগ্ম সচিব (পার) মো: সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে তদন্তকাজের সমর্থনে সাক্ষী ও তথ্যসহ স্বশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২০ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ২২ জনকে নিয়োগ প্রদান করেন। কিন্তু ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: মো: রুহুল কুদ্দুছ (বিএনপি সমর্থক) ২০২০ সালের নিয়োগকৃত ২২ জনের মধ্যে ৬ জনের নিয়োগ ইচ্ছামত বাতিল করে নতুন ১১ জনসহ ৩৩ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেন। আবার ৩ দিন পর ২৯ জানুয়ারী আবারো ওই তালিকা থেকে দুইজনকে বাতিল করে আরো একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেন। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী কোন কর্মীকে বাদ দিতে গেলে অবশ্যই তাকে শোকজ বা কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করা উচিত। কিন্তু কোন ধরনের নোটিশ না করেই ৬কর্মীকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে চাকুরি হারানো মেহেদী হাসান, নুর জাহান, সাহেব আলী, আবু সাঈদ, ইদ্রিস আলী, রাকিবুজ্জামান এ প্রতিনিধিকে জানান। চাকুরি হারিয়ে মেহেদী হাসান, নুর জাহান, সাহেব আলী ও ইদ্রিস আলী বিচার চেয়ে বাংলাদেশ হাইকোর্টে চলতি বছরের ২৬ মে মেহেদী হাসান ৬৩০৩/২০২২ নং রিট পিটিশন দাখিল করেন। সে অনুযায়ী সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক ইচ্ছামত বাতিল করে দেওয়া আউট সোর্সিংয়ের ৪জনকে পুর্নবহালের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গত ৫ জুন ২০২২ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলাম ও মহিউদ্দীন শামিম এ নির্দেশ দেন।

এছাড়া চাকুরিহারা ৪জনকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে মেডিকেল কলেজে নিয়োগ প্রদান পূর্বক নোটিশ বোর্ডে তালিকাভুক্তির নির্দেশ দিলেও আদালতের শোকজের কোন জবাব দেননি অধ্যক্ষ ডা: রুহুল কুদ্দুস। এমনকি চাকুরিহারাদের নিয়োগের বিষয়ে কোন পদক্ষেপও গ্রহণ করেনি।

এর আগে চাকুরিহারা নুর জাহান আদালতের বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দিলেও তিনি ওই লিগ্যাল নোটিশেরও কোন জবাব দেননি। এরপর ভুক্তভোগীরা চাকুরি ফেরত পাওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। কিন্তু অজানা কারনে তাদের কাউকে বহাল না করে এবং আদালতের নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে বহাল তবিয়্যতে রয়েছেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: রুহুল কুদ্দুস।

এছাড়া ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের আউট সোর্সিংয়ের ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়োগের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এঘটনায় মানববন্ধনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর থেকে তার অনিয়ম দুর্নীতি দ্বিগুনহারে বেড়ে গেলেও অজানা কারনে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না বলে জানান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি গোপন সূত্র।

এদিকে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বিএনপি পন্থী ডা: রুহুল কুদ্দুস ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি কোয়ার্টারে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও অনিয়মিত শ্রমিকদের কোয়ার্টার ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছেন। তার গাড়ী চালক লিয়াকত আলীর মাধ্যমে সুবিধা নিয়েই তিনি অবৈধভাবে তাদের সরকারি কোয়ার্টার ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সরকারি কোয়ার্টার ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাসুদ, আউট সোসিংয়ের রেকসোনা পারভিন, অনিয়মিত শ্রমিক মুখেশ হালদার, বাবুর্চি আব্দুল আলিম, নয়ন কুমার ও রবিউল ইসলাম। এছাড়াও পরিচ্ছন্নতা কর্মী ফরিদ হোসেন, অফিস সহকারী মামুন, ক্যাশের আব্দুল কুদ্দুস, পিসিআর ল্যাব সহকারী মোশাররফ হোসেন।

অন্যদিকে লিয়াকত ড্রাইভার ৪র্থ শ্রেণির একজন সরকারি কর্মচারী অথচ কোন রকম ভাড়া না দিয়ে সরকারি চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ কোয়ার্টারে থাকে বছরের পর বছর। কোন আবেদনপত্র ছাড়া এবং কোন নিয়ম না মেনেই একাধিক কোয়ার্টার দখলে রেখেছেন তিনি। এছাড়াও মেডিকেলের বিভিন্ন মালামাল আত্মসাথের অভিযোগও রয়েছে।

তবে কোয়ার্টার ছাড়ার জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারী সামেক/সাত/শা-১/২০২২/৩০৬ নং স্মারকে নোটিশ প্রদান করেছেন অধ্যক্ষ। কিন্তু নোটিশ দেওয়ার প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হলেও কেউই কোয়ার্টার না ছাড়লেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বিএনপি পন্থী অধ্যক্ষ ডা: রুহুল কুদ্দুস।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক মেডিকেল কলেজের একজন কর্মচারী জানান, তিনি বিএনপির মদদ পুুষ্ট হওয়ায় সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারকে বিব্রত করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তার অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি টিভি চ্যানেলেও তার নিয়োগ বাণিজ্যের খবর প্রচারিত হয়েছে। এবিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগও দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার অনিয়মের প্রমান পাওয়া গেছে। আর তার সাথে রয়েছেন আরো এক বিএনপি নেতা দূর্ণীতিবাজ অধ্যাপক ডা: কামরুজ্জামান। সেও জনসম্মূখে এখনও নিজেকে বিএনপি নেতা বলে দাবী করেন। এমনকি অধ্যাপক ডা: কামরুজ্জামান আগামী সংসদ নির্বাচনে তালা-কলারোয়া-০১ আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে একাধিক বিএনপি নেতা এ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া ডা: রুহুল কুদ্দুস হাসপাতালের বিভিন্ন ক্রয় কমিটি ও টেন্ডার যাচাই-বাচাই সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হওয়ায় মালামাল ক্রয়ের নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ছাত্র কল্যাণ তহবিলের বরাদ্দ, স্বেচ্ছা সেবকদের বরাদ্দসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ থেকে আর্থিক অনিয়ম করে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ দূর্ণীতিবাজ দুই চিকিৎসককে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

এ রিপোর্ট লেখার সময় রাত ৮টা ৫৬মিনিটে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: রুহুল কুদ্দুসের মুঠো ফোনে (০১৭১৫১৩৯২০৩) যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন