আজমল হোসেন জুয়েল:
গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার (৩১ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশে পালন করা হচ্ছে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। এ উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তবর্তীকালীন সরকার।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার সূর্যোদয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত অবস্থায় উত্তোলন করলেও তালা উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মনুযায়ী সূর্যাস্ত’র সময়ে না নামিয়ে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে সংশ্লিষ্ট স্কুলের দায়িত্বশীলরা। ফলে ওই প্রতিষ্ঠান গুলোতে সারারাত ধরে ঝুলতে থাকে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা। যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জাতীয় পতাকার এমন অবমাননা দেখে সাংবাদিকদের খবর দেয় স্থানীয়রা ।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারী) ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের ইসলামকাটি ম্যাধমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সন্ধ্যা ৬টার পরও উড়ছে জাতীয় পতাকা। একই অবস্থা উপজেলার বারাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। রাত ৮টার দিকে ওই স্কুলে গিয়ে দেখা যায় অর্ধনমিত অবস্থায় ঝুলছে জাতীয় পতাকা। এসময় ওই স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আনিসুর রহমানকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানানো হলে তিনি বলেন, আমি স্কুল থেকে আসার সময় একজন দোকানদারকে জাতীয় পতাকা নামানোর দায়িত্ব দিয়ে এসেছি । এক্ষুনি তাকে ফোন দিয়ে নামাতে বলছি । এসময় ঘটনাস্থলে জনৈক দোকানদার এসে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা টেনে নিচে নামিয়ে ফেলে । অথচ পতাকা বিধিমালা অনুসারে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা উঠানা কিংবা নামানোর যে নিয়ম রয়েছে ওই ব্যাক্তি তাই জানেই না । এমনকি সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও জানেন না কিভাবে অর্ধনমিত পতাকা উঠাতে কিংবা নামাতে হয় ।
এর আগে বেলা ৩টার দিকে ইসলামকাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ঘোষণা অনুযায়ী ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন পতাকা টানানোই নেই । এবিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ সনাতন দাসকে মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ব্যাক্তিগত কারণে আমি আজ তাড়াতাড়ি কলেজ থেকে চলে এসেছি । একজনকে পতাকা নামানোর দায়িত্ব দিয়ে আসছিলাম । সে কখন নামিয়েছে এটা আমি খোঁজ নিয়ে জানাবো । তবে ওই শিক্ষক পরে আর যোগাযোগ করেনি।
রাষ্ট্রীয় শোকের ৩য় দিন শুক্রবার (০২জানুয়ারী) বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, এদিন উপজেলা প্রতিবন্দি স্কুল, শাহাপুর সিরাউউদ্দীন গাজী স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের মদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনই করা হয়নি। এছাড়াও শোকের এই দিনগুলোতে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়নি বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন প্রচেষ্টায় ।
এদিকে, শিক্ষকদের ভুলে কিংবা অজ্ঞতায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও পরিচয়ের প্রতীক জাতীয় পতাকার এমন অবমাননার প্রতিযোগিতায় হতবাক স্থানীয় সুশীল সমাজ । তারা বলেন, জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষকদের কাছ থেকে জাতীয় পতাকার অবমাননা কোনভাবেই কাম্য নয় । জাতীয় পতাকা একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও পরিচয়ের প্রতীক, তাই এর অবমাননা দেশপ্রেমিক মানুষের কাছে অত্যন্ত আপত্তিকর। আমরা আর কবে বুঝবো এটি কেবল একটি কাপড়ের টুকরা নয়, বরং লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্মারক, তাই এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
এবিষয়ে কথা বলতে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহ্নত ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা একাডেমীক সুপাইভাইজার প্রভাস কুমার দাস বলেন, জাতীয় পতাকার অবমাননা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান জানান, জাতীয় পতাকা অবমাননার কোন সুযোগ নেই । যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্ববর্তী পোস্ট
