নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোর রাত দুটোর দিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে কালিগঞ্জ উপজেলার মলেঙ্গা গ্রামের তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত প্রধান শিক্ষক হলেন, শ্যামনগর উপজেলার মানিকখালি গ্রামের অব্দুস ছাদেম গাজীর ছেলে ও পূর্ব রমজাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর (৫০)।
স্থানীয়রা এলাকাবাসী ও তার স্বজনরা জানান, দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়া ভাইকে নিয়ে প্রতিদিন পূর্ব রমজাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতো বুদ্ধি প্রতিবন্ধি (৩১) ওই নির্যাতিতা নারী। ওই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি ওই নারীকে খাবার ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কেউ বাড়িতে না থাকার সূযোগে গত বছরের ১৩ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে প্রথম দফায় ধর্ষণ করে ওই লম্পট প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি কাউকে বললে জীবননাশের হুমকিও দেন তিনি। এমনকি ওই শিক্ষক তার ফোন নং দিয়ে বলেন বাড়িতে কেউ না থাকলে তাকে কল দিতে। বিগত কয়েকমাস ধরে স্কুলের মধ্যে একটি ঘরে একাধিকবার ধর্ষণ করে ওই প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর। একপর্যায়ে গত ১২ জানুয়ারি বাড়িতে এসে ধর্ষণের চেষ্টাকালে জানাজানি হলে আব্দুস সবুর পালিয়ে যায়। এরপর নির্যাতিতা নারী স্বজনরা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তারা জানতে পারেন ইতিমধ্যে ওই নারী তিন মাসের অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে শুক্রবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পরই ভোর রাত ২ টার দিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে কালিগঞ্জ থানার মলেঙ্গা গ্রামের তার ভায়রা ভাই মোহাম্মদ আলী ওরফে খোকনের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে শনিবার বিকেলে আদালত চত্বরে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুস সবুর জানান, এলাকার দলাদলিতে তার চাচাত ভাই হুমায়ুন কবিরের পরিকল্পনায় তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বাদল জানান, এ ঘটনায় থানায় নির্যাতিতা ওই প্রতিবন্ধী নারীর ভাই বাদী হয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় শুক্রবার রাতে মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকে গ্রেপ্তার করে শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ভিকটিমের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে বিচারিক হাকিম বণ্যা খাতুনের কাছে ২২ ধারা ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধি শেষে বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
