হোম ফিচার সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ইউপি নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও দুই বিদ্রোহী প্রার্থীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নৌকার প্রার্থীসহ আহত-৯, আটক-৫, দুই বিদ্রোহী প্রার্থী দল থেকে সাময়িক বহিস্কার

নিজস্ব প্রতিনিধি :

আগামী ২০ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা কেড়াগাছি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষে আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থীসহ ৯ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে। রোববার রাতে উপজেলার ৫নং কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের উত্তরপাড়া মসজিদ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন, আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর বদরুল রহমান, শরিফুল ইসলাম, আমিনুর ইসলাম, আরিফুল ইসলাম ও বজলুর রহমান।

এদিকে, আহতরা হলেন, কেড়াগাছি ইউনিয়নের মোছলেউদ্দীন গাইনের পুত্র নৌকার প্রার্থী ভুট্টোলাল গাইন (৫৫), তার কর্মী কিতাবুদ্দীন গাজীর পুত্র সিরাজুল গাজী (৪৫) ও ফারুক গাজী (৫৭), শাহজাহান গাজীর স্ত্রী আনেছা খাতুন (৫৫), রেজাউল ইসলামের পুত্র শহীদ হোসেন (২৫), আজিজুল সরদারের পুত্র মন্টু (২৫), আব্দুল আলীর পুত্র আব্দুল বারিক (৫০), গোলাম মোস্তফা গাইনের পুত্র হাবিবুর রহমান (২৬) ও তবিবর গাজীর স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন (১৮)।

প্রত্যদর্শীরা জানান, কলারোয়া উপজেলার ৫ নং কেড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেনের মোটর সাইকেল প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করে নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা। এ ঘটনা জানাজানি হলে, বিকেলে মারুফ হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা পাল্টা কাকডাঙ্গা মোড় এলাকায় নৌকার নির্বাচনী কার্যালয় বন্ধ করে দেয়।

এ ঘটনায় রাত ৮টার দিকে বোয়ালিয়া উত্তর পাড়া এলাকায় আওয়ামীলীগের আর এক বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল ও নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ভুট্টোলাল গাইন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের হাতে নৌকার প্রার্থীসহ তার ৯ কর্র্মী-সমর্থকরা রক্তাক্ত আহত হন বলে জানান স্থানীয়রা। আহতদের কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে সিরাজুল গাজী ও আনেছা খাতুনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খাইরুল কবীর জানান, এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো জানান, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় এবং দলীয় প্রার্থীর (নৌকার) নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও দলীয় প্রার্থীসহ তার কর্র্মীদের মারপিট করে আহত করার ঘটনায় বিদ্রোহী প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন ও বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিলকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন