আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রিত্বের লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন দেশটির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেরিমি হান্ট। ২০১৯ সালে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। এছাড়াও বরিস জনসনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ জাভিদ ও রেহমান চিশতি।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে এক বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন বরিস জনসন। এরপরেই শুরু হয়েছে নেতৃত্বের লড়াই। আগামী সপ্তাহে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মিত্ররা বলছেন, টরি পার্টির সহকর্মীদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছেন জেরেমি হান্ট। এদিকে সিনিয়র ব্যাকবেঞ্চার টম টুজেন্ডহাট ও অ্যাটর্নি জেনারেল সুয়েলা ব্রেভারম্যানও দলীয়প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে থাকছেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়ার আগ পর্যন্ত বরিস জনসনই দায়িত্ব পালন করে যাবেন। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ তার উত্তরসূরি দায়িত্ব নিতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে বরিস জনসনকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে বিরোধী দল লেবার। কিন্তু রক্ষণশীলদের মধ্য থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন তারা পাবে বলে মনে হচ্ছে না।
গত মাসে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে টরি এমপিদের আহ্বান জানিয়েছিলেন জেরেমি হান্ট। এরআগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
শুক্রবার ডেইলি টেলিগ্রাফে একটি নিবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে প্রার্থী হওয়ার আভাস দিয়েছেন হাউস অব কমনসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান টম টুজেন্ডহাট। জ্বালানিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নতুন পরিকল্পনা ও করহ্রাসের অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বরিস জনসনের সমালোচনা করে এসেছেন টম টুজেন্ডহাট। তিনি বলেন, এর আগে আমি সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছি। বর্তমানে পার্লামেন্টে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছি। এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে চাই।
সাবেক ব্রেক্সিটমন্ত্রী স্টিভ বাকের বলেন, লোকজন আমাকে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যে কারণে বিষটি আমি গুরুত্বসহকারে ভাবছি।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ, পরবহনমন্ত্রী গ্র্যান্ট শ্যাপসও লড়াইয়ের রিং-এ নামার কথা ভাবছেন। অর্থ ও স্বাস্থ্যসহ ছয়টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে সাজিদের। এরআগের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে তিনি চার নম্বরে ছিলেন।
কনজারভেটিভ এমপি রেহমান চিশতিও প্রার্থী হওয়ার কথা ভাবছেন। তিনি পাকিস্তানে বরিস জনসনের বাণিজ্য দূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। কনজারভেটিভ পার্টি ফর কমিউনিটিজেরও ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালের ৪ অক্টোবর আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের মুজাফররাবাদে তার জন্ম।
রেহমান চিশতি বলেন, আমাদের এমন একজন নেতা দরকার, যিনি আধুনিক ব্রিটেনের সবচেয়ে ভালো প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন। এছাড়া আমাদের দেশ বর্তমানে যেসব প্রতিকূলতার মুখোমুখি, যথাযথ নেতৃত্বের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকছেন টরি পার্টির আরেক এমপি জন ব্যারোন।
