হোম খেলাধুলা সাকিব কি শেষ বিশ্বকাপ খেললেন?

খেলাধূলা ডেস্ক :

জিতলেই পেয়ে যেত সেমিফাইনালের টিকিট। সেই রাস্তায় অনেকটাই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হলো না। পাকিস্তানের কাছে হেরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের অভিযান শেষ করল টাইগাররা। এরপরই প্রশ্ন উঠছে, এটাই কি সাকিব আল হাসানের শেষ বিশ্বকাপ? কারণ বয়স ৩৫ পার হয়ে গেছে। সে কারণেই প্রশ্ন উঠছে, পরের বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে? অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের বিদায়ী ম্যাচ শেষে সে বিষয়ে জবাব দেন টাইগার অধিনায়ক।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে এবারের আসরের আগে একটিও জয় দেখেনি বাংলাদেশ। এবার সুপার টুয়েলভে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে ও নেদারল্যান্ডসকে। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে ছিল সেমিফাইনাল যাওয়ার সম্ভাবনা। যদিও পাকিস্তানের কাছে ৫ উইকেটে হেরে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় বাংলাদেশের।

নেদারল্যান্ডসের কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা হেরে যাওয়ায় সেমিফাইনালের সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। রোববার (৬ নভেম্বর) অ্যাডিলেডে ব্যাটিং ব্যর্থতায় পাকিস্তানের কাছে ৫ উইকেটে হারল সাকিবের দল। টস জিতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১২৭ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের সঙ্গে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বাবর আজমরা।

এ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের জন্য ব্যাটারদের দুষলেন সাকিব আল হাসান। শেষ দশ ওভারে প্রত্যাশা মতো ব্যাটিং করতে পারেনি দল। তবে ব্যর্থতার মাঝেও সামগ্রিক বিবেচনায় এবারের বিশ্বকাপকে বাংলাদেশের সেরা বলে আখ্যা দেন তিনি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের আরও বেশি রান করা উচিত ছিল বলে মনে করেন সাকিব। টাইগার অধিনায়ক বলেন, ম্যাচের মাঝামাঝি সময় আমরা এক উইকেট হারিয়ে ৭০ রান তুলেছিলাম। তখনই চেয়েছিলাম অন্তত ১৪৫-১৫০ রান তুলতে। এই পিচে খুবই যৌক্তিক স্কোর হতো। নতুন ব্যাটারদের কাছে কাজটা কঠিন ছিল জানি। তবু বলব, কারও একটা উচিত ছিল ম্যাচটা কিছুক্ষণ টেনে নিয়ে যাওয়া। সেটা আমরা পারিনি।

তবে টাইগার অধিনায়ক জানালেন, ফলাফলের দিক থেকে এটাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের সেরা পারফরম্যান্স। তিনি বলেন, যা সামর্থ্য ছিল, সে অনুযায়ী সেরা পারফরম্যান্স এটা। নতুন ছেলেরা দলে এসেছে। এছাড়াও আরও অনেক পরিবর্তন এসেছে। ফলে আমাদের যা সামর্থ্য ছিল, তাতে সর্বোচ্চ এটাই অর্জন করতে পারতাম আমরা।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজুড়ে সাকিব নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ব্যাট হাতে ছিলেন একেবারেই ছন্দহীন। ৫ ম্যাচ খেলে মোটে ৪৪ রান করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। যদিও বল হাতে মোটামুটি ভালো করেছেন তিনি।

এছাড়া সাকিব জানালেন, ‘এখনই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নেয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। আরও খেলা চালিয়ে যেতে চান। এ বিষয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেন, আমি আসলে এ বিষয়ে জানি না। বাংলাদেশের হয়ে যত বছর সম্ভব খেলার চেষ্টা করব। আমাকে ফিট থাকতে হবে এবং পারফর্ম করতে হবে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে এটি আমার জন্য আদর্শ টুর্নামেন্ট ছিল না। আমি মনে করি, আমি আরও ভালো বোলিং-ব্যাটিং করতে পারতাম। তাই যতদিন ফিট আছি, ততদিন দলের জন্য অবদান রাখব, আমি খেলব।’

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন