খেলাধূলা ডেস্ক :
পাকিস্তানের কাছে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। সফর শেষে এবার টাইগারদের দেশে ফেরার পালা। সোমবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার উদ্দেশে উড়াল দেবে লাল-সবুজরা। তবে আসছেন না অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, টাইগারদের বহনকারী ফ্লাইটটি অ্যাডিলেড সময় সকাল সাড়ে ১০টায় উড়াল দেবে। এরপর সিঙ্গাপুর হয়ে রাত পৌনে ১১টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের।
তবে এই দলের সঙ্গে ফিরছেন না সাকিব আল হাসান। তিনি অ্যাডিলেড থেকে সিডনি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে যাবেন। সাকিব ছাড়াও ১৫ সদস্যের স্কোয়াডের আরও দু-একজন এদিন ফিরবেন না বলে জানা গেছে।
অস্ট্রেলিয়া মিশনে ১৫ বছরের অপেক্ষা ফুরায় বাংলাদেশের। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হেভিওয়েট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ে ক্যারিবিয়ানদের টপকে সুপার এইটে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সুপার এইটে তিন ম্যাচেই হারে লাল-সবুজরা।
এরপর আরও ৬টি আসর অনুষ্ঠিত হলেও মূলপর্বে জয় পাওয়া হয়নি। তবে এবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয় বাংলাদেশের। শুধু তাই নয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো দুই জয় পেয়েছে টাইগাররা। সুপার টুয়েলভের গ্রুপ দুইয়ে প্রথম ম্যাচেই ডাচদের বিপক্ষে জয় পায় সাকিবরা। এছাড়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও দারুণ এক জয় তুলে নেয় টাইগাররা।
শেষ ম্যাচে সেমিফাইনালে ওঠার হাতছানি ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি টাইগাররা। পাকিস্তানের কাছে হেরে বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলেও এবার বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ছিল বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক জানান, ফলাফলের দিক থেকে এটাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের সেরা পারফরম্যান্স।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজুড়ে সাকিব নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ব্যাট হাতে ছিলেন একেবারেই ছন্দহীন। ৫ ম্যাচ খেলে মোটে ৪৪ রান করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। যদিও বল হাতে মোটামুটি ভালো করেছেন তিনি। এ বিষয়ে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আমার নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বললে, আমি আরও ভালো করতে পারতাম। যতক্ষণ আমি ফিট, ততক্ষণ পারফর্ম করছি। আমি খেলতে চাই।’
এদিকে, আইসিসির বিবৃতি অনুযায়ী, সুপার টুয়েলভে অংশ নেয়া প্রতিটি দল পাবে ৭০ হাজার ডলার, যা কিনা প্রায় ৭০ লাখ টাকার বেশি। সেই হিসাবে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ৭০ লাখের বেশি টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ। আর প্রতি ম্যাচ জেতার জন্য আলাদাভাবে পাচ্ছে ৪০ লাখ টাকার বেশি। সেই হিসাবে এবারের বিশ্বকাপ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ।
