আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
শিগগিরই বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ হতে যাচ্ছে ভারত। ২০২৩ সালেই প্রতিবেশী দেশ চীনকে ছাড়িয়ে জনসংখ্যায় বিশ্বের এক নম্বর স্থান দখল করবে দেশটি। জাতিসংঘের বৈশ্বিক জনসংখ্যা বিষয়ক সংগঠন ইউনাইটেড নেশন্স পপুলেশন ফান্ডের (ইউএনএফপিএ) প্রতিবেদন ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২২’ এমনটাই বলছে।
বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটির মাইলফলক ছুঁয়েছে। এর মধ্যে চীন ও ভারতের সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশেরও বেশি। তবে এ মুহূর্তে ভারতের জনসংখ্যা চীনের চেয়ে কিছুটা কম। ভারতের জনসংখ্যা ১৩৯ কোটি। আর চীনের ১৪১ কোটি। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২২ প্রতিবেদন মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা ৮৫০ কোটি হয়ে যাবে। আর ২০৫০ সালের মধ্যে হবে ৯৭০ কোটি।
নতুন এই প্রতিবেদন মতে, গত এক যুগে বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ কোটি। এর মধ্যে ভারতের ‘অবদান’ সর্বোচ্চ। তালিকায় ভারতের পরেই রয়েছে চীন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত প্রায় ১২ বছরে ভারতের জনসংখ্যা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১৭ কোটি ৭০ লাখ। আর চীনের জনসংখ্যা এই সময়সীমায় বেড়েছে ৭ কোটি ৭০ লাখ।
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্ট ২০২২ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় চারগুণ ও যুক্তরাজ্যের ২০ গুণ। এবার চীনকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে ভারত। বর্তমানে দেশটিতে প্রতিদিন ৮৬ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। বিপরীতে চীনে জন্ম নিচ্ছে ৪৯ হাজার ৪০০ শিশু। বর্তমান জন্মহার অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সালের মধ্যেই চীনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির যে হার লক্ষ করা যাচ্ছে, তাতে বর্তমান ৮০০ কোটি থেকে এ সংখ্যা ৯০০ কোটিতে উন্নীত হতে সময় নেবে ১৪ বছরের কিছু বেশি সময়। অর্থাৎ আগামী ২০৩৭ সালের মধ্যেই এ গ্রহের জনসংখ্যা ৯০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করবে।
তারপর আগামী ২০৮০ সালে জনসংখ্যা ১ হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ। পরবর্তী শতাব্দী অর্থাৎ ২১০০ সালের শুরু পর্যন্ত বিশ্বের জনসংখ্যা থাকবে ১ হাজার কোটি থেকে ১ হাজার কোটি ৪০ লাখের মধ্যে।
২০১০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ৭০০ কোটি। তারপর গত এক যুগে এই সংখ্যায় যে ১০০ কোটি নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে, তাদের প্রায় ৭০ শতাংশই নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ইউএনএফপিএ।
উচ্চ উচ্চ-মধ্যম মধ্যম-নিম্নমধ্যম ও নিম্ন আয়ের বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী দশকগুলোতে বৈশ্বিক জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে নিম্ন-মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ‘অবদান’ ৯০ শতাংশ বা তারও অধিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
২০৫০ সাল নাগাদ নিম্ন ও নিম্ন মাঝারি আয়ের দেশগুলোর মোট জনগণের অধিকাংশেরই বয়স থাকবে ৬৫ বছরের কম। অন্যদিকে উচ্চ ও উচ্চ মাঝারি আয়ের দেশগুলোর মোট জনগণের অধিকাংশের বয়স থাকবে ৬৫ বছরের বেশি। তবে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে মোট জনসংখ্যার হিসেবে চীনকে পেছনে ফেলবে ভারত।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালে ভারতের জনসংখ্যা হবে ১৬৬ কোটি ৮০ লাখ এবং চীনের জনসংখ্যা পৌঁছাবে ১৩১ কোটি ৭০ লাখ। তার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরেই চীনে বার্ষিক জন্মহার কমছে এবং বর্তমান হারে এটি হ্রাস পাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সালে চীনে জন্মহার শূন্যের কোটায় পৌঁছাবে।
আপাতদৃষ্টিতে ১২ বছরে ১০০ কোটি মানুষের বৃদ্ধিকে অনেক বড় বলে মনে হলেও ইউএনএফপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গত ১২ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা যে হারে বেড়েছে, তা ১৯৫০ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন। ২০২০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১ শতাংশেরও কম।’
