হোম অর্থ ও বাণিজ্য সরকারি দফতরের মতবিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা: পরিকল্পনামন্ত্রী

বাণিজ্য ডেস্ক:

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, সরকারি বিভিন্ন দফতর যেমন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বাংলাদেশ ব্যাংক বা শিল্প মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এক ধরনের মতবিরোধ কাজ করে। এসব মতবিরোধে ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে আমদানি বিকল্প শিল্প: প্রেক্ষিত হালকা প্রকৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারি দফতরগুলো নানা ধরনের সাংঘর্ষিক নীতিমালা দিয়ে থাকে। দেখা যায়, একটি নীতিমালার সঙ্গে অন্য নীতিমালার সামঞ্জস্য নেই। এটি হয় দফতরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে। যার প্রভাব পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা। তাকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, নীতিমালা যাচাই-বাছাই করে পরিবর্তনের দায়িত্ব সচিবদের। তারা সাংঘর্ষিক নীতিমালাগুলোকে বাদ দিয়ে একটি স্থিতিশীল ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে আশা করেন মন্ত্রী।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, মূলত আমরা সবাই ব্যবসায়ী। আমি নিজেও রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা করি। আমাদের দুই পক্ষের মধ্যেই একটি গোষ্ঠী একজনকে দমিয়ে আরেকজনের ওপরে উঠতে চায়। এটি সমন্বয় এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। এই ধরনের মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাকিয়া সুলতানা বলেন, হালকা প্রকৌশল শিল্পকে উন্নত করতে ব্যবসায়ীরা যেসব পরার্মশ দিয়েছেন সেটি লিখিত আকারে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠালে মন্ত্রণালয় বিবেচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিবে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মানোয়ার হোসেইন বলেন, বলা হয়, দেশের অর্থনীতি এখন ৩০০ বিলিয়ন ডলারের। এই ৩০০ বিলিয়ন ডলার শুদ্ধ এবং অশুদ্ধ দুই আয়ের সম্মিলনে পাওয়া। যখন রূপপুরে বালিশকাণ্ডে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়, সেটিও জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) অন্তর্ভুক্ত হয়। এক্ষেত্রে ১ ট্রিলিয়ন জিডিপি হলে দুর্নীতির আয় কত টাকা হবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা উচিত। এছাড়া ব্যবসায়ী এবং সরকারের মধ্যে দূরত্ব না ঘোঁচালে ব্যবসাখাতে আলাদা ক্ষেত্র তৈরি হবে না। এদিকে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মনোযোগ দিতে হবে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন আনোয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন, ট্রান্সকম ইলেকট্রনিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরসাদ হক ও ফেয়ার গ্রুপের প্রধান মার্কেটিং অফিসার মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার শামীর সাত্তার।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন