হোম অর্থ ও বাণিজ্য সংকট নেই লবণের, দাবি মিলারদের

বাণিজ্য ডেস্ক:

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কক্সবাজারের লবণ মিলগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। দেশের নানা প্রান্তে প্রতিদিনই এক লাখ মেট্রিক টন লবণ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা কোরবানির পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রয়োজন মেটাবে। এদিকে দেশে লবণ সংকট না থাকার দাবি মিল মালিকদের।

মঙ্গলবার (২৭ জুন) সকালে কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ঘাটে সরেজমিন দেখা গেছে, ঘাটে একের পর এক লবণভর্তি ট্রলার ভিড়ছে। প্রতিটি ট্রলারে রয়েছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টন লবণ।

কক্সবাজার বিসিক জানিয়েছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর শিল্প এলাকায় ৮০টির মতো লবণের মিল রয়েছে। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ ও চকরিয়ার লবণ মাঠ থেকে প্রতিদিনই মিলে হাজার হাজার মেট্রিক টন লবণ আসছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এসব মিলে এখন মহাব্যস্ততা।

ইসলামপুর শিল্প এলাকার লবণ ট্রাক গণনাকারী মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ‘এখন প্রতিদিনই ১০০ থেকে ১৫০টি লবণভর্তি ট্রাক ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে মহেশখালীর লবণচাষি আবদুর রশিদ বলেন, ‘প্রায় ৯০০ টন লবণ বিক্রি করার ট্রলার নিয়ে ইসলামপুর ঘাটে এসেছি। এখানে প্রতিমণ লবণ সাড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছি।’

পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে লবণ শ্রমিকদেরও। এমনই একজন লবণশ্রমিক রহিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ট্রলার থেকে লবণ বোঝাই করে মিলে এবং মিল থেকে ট্রাকে তুলে দিতে প্রতিদিনই কয়েকশ শ্রমিক কাজ করছেন।

সরেজমিন আরও দেখা যায়, মাঠ থেকে আসা লবণ ওজন করে মিলে নেয়া হচ্ছে। সেখানে এসব লবণ ক্রাশ করা হয়। তারপর প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে প্যাকেটিং করা হয়। তারপর তা সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।

এদিকে মাঠে ও মিলে ১২ লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুত থাকার কথার দাবি করে মিলাররা বলেন, সংকট দেখিয়ে লবণ আমদানির প্রশ্নই আসে না।

এ নিয়ে কক্সবাজার মিল মালিক সমিতির সভাপতি সামশুল আলম আজাদ বলেন, মাঠে ৮ লাখ মেট্রিক টন এবং মিলে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন লবণ রয়েছে। সেহেতু দেশে লবণের সংকট দেখা দেয়ার প্রশ্নই আসে না। যারা সংকট দেখিয়ে লবণ আমদানির পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারাই প্রতিবছর কোরবানির ঈদ এলে সংকট দেখিয়ে লবণ আমদানি করার পাঁয়তারা চালায়।

দেশের লবণ সংকট থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে কক্সবাজার বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, গুজবে কান দেয়ার প্রয়োজন নেই। দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুত রয়েছে। চাষিরা মাঠে গর্ত করে প্রায় সাত লাখ মেট্রিক টন মজুত করেছিল। এখন সেই লবণ বিক্রি করছে। তবে দাম একটু বাড়তি হতে পারে। কারণ, বর্ষা মৌসুমে মাঠে গর্ত থেকে লবণ তুলে তা বিক্রি করতে একটু বেগ পেতে হচ্ছে। তাই লবণের দাম একটু বাড়তি।

তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে দেশে উৎপাদন হয়েছে ২২ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ, যা বিগত ৬২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর কোরবানির চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ১ লাখ মেট্রিক টন লবণ প্রয়োজন হবে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন