রাজনীতি ডেস্ক :
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আমরা ঘরে বসে থাকলেও শেখ হাসিনা ক্ষমতায় যেতে পারবেন না এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনও করতে পারবেন না।
শনিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সরকারের চক্রান্তের উপাদানে যদি আমরা (বিএনপি ও সরকারবিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দল) না পড়ি, তাহলে আমরা ঘরে বসে থাকলেও শেখ হাসিনা ক্ষমতায় যেতে পারবেন না এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনও করতে পারবেন না।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আমরা আপনাকে (শেখ হাসিনা) বিশ্বাস করেছিলাম। আপনি বললেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা। আপনারা আমার সঙ্গে আসেন। আলোচনা করে দেশে কীভাবে একটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়।’ আমরা বিশ্বাস করে আপনার অফিসে গেলাম। আপনি এমনভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন যে দিনের ভোট রাতে করলেন।’
আহসান হাবিবের এই বক্তব্যের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি লিংকনকে বলব, যারা শেখ হাসিনার কথা বিশ্বাস করে, তারা মানুষ না।’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্র কি যারা প্রাসাদের মধ্যে থাকে তাদের মধ্যেই হয়? প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আমরা কেউ অংশগ্রহণ করছি কি না?’
তিনি বলেন, ‘আন্দোলন করলাম দিনের বেলায়। আর রাতের বেলায় তার সঙ্গে বৈঠক করলাম। আসন ভাগাভাগি করলাম। আমার মামলাটা একটু দেখবেন। এসব কথাবার্তা যদি চালাচালি করেন রাতের অন্ধকারে বসে, তাহলে সাধারণ নেতাকর্মী বুঝবে না।’
বিএনপি আন্দোলন করবে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘আন্দোলন করার লোকের কোনো অভাব নেই। আর আন্দোলনকে ভন্ডুল করার জন্য অনেক লোকের দরকার নেই। সেই লোকগুলো আমাদের আশপাশে আছে। সেই লোকদের গোপন, আড়ে কথাবার্তা চলছে কি না। কার কাছে হাসিনা কথা দিয়েছিলেন ৬০-৭০টা আসন দেবেন? সেই লোকটা কে?’
বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন নিয়ে সরকার ভীত না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কারণ, আন্দোলনকে দমন করার জন্য সরকারের বিভিন্ন বাহিনী রয়েছে। শেখ হাসিনা বেকায়দায় আছেন সারা বিশ্বে তার প্রতারণা, দুর্নীতি, তার ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র পরিচালনা, গুম, খুন, বিনা বিচারে হত্যা নিয়ে।’
এসময় বিএনপির এই নেতা নিরপেক্ষ সরকারের পাশাপাশি সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আইনজীবী আহমেদ আজম খান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির প্রমুখ।
