জাতীয় ডেস্ক :
রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমিরসহ বিচিত্র প্রাণির অভয়ারণ্য সুন্দরবন। শীত মৌসুমে এ অপরূপ সৌন্দর্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এদিকে ভ্রমণ পিপাসুদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। পদ্মা সেতুর ফলে পর্যটক সংখ্যা এবার দ্বিগুণের বেশি হওয়ার আশা ব্যবসায়ীদের।
শীতের শুরুতেই প্রকৃতির নতুনরূপে বাড়ে সুন্দরবনের সৌন্দর্যও। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমিরসহ নানা স্থল ও জলজ প্রাণির আশ্রয়স্থল এই বন। রয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, গোলপাতা গাছ। রোমাঞ্চকর শিহরণের সঙ্গে প্রকৃতির এসব নৈসর্গিকতা মুগ্ধ করে যে কাউকে। ফলে সব ক্লান্তি নিয়ে পর্যটকরা ছুটে যায় সুন্দরবনের কাছে। সেখানে প্রকৃতির বুকে সব ক্লান্তি জমা দিয়ে নতুন প্রাণশক্তি নিয়ে ফিরে।
এদিকে, মৌসুমকে সামনে রেখে সমুদ্র তীরবর্তী ও বনাঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলো নতুন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ট্যুর অপারেটর, লঞ্চ মালিকরা নতুনভাবে সাজিয়েছেন লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযান। করমজল, কটকা, দুবলা, হাড়বাড়িয়া, কচিখালিসহ বিভিন্ন স্পটে ভ্রমণের জন্য অপেক্ষায় সৌন্দর্য পিপাসুরা।
পর্যটকরা বলছে, পরিবার নিয়ে সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখতে এসেছি। এ বনের প্রাণ বৈচিত্র্য দেখার আনন্দ অন্যরকম।
পদ্মা সেতুর কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসায় ট্যুর ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী। এরইমধ্যে দেশি বিদেশি পর্যটকরা বুকিং দিয়ে রেখেছেন পুরো ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসজুড়ে।
এভারগ্রীন ট্যুরস স্বত্বাধিকারি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, ‘অন্য বছরগুলোর তুলনায় এ বছর সাড়া বেশি পাচ্ছি। প্রতিদিন বুকিং বাড়ছে। আমরা আশাবাদী, এভাবে বুকিং চলতে থাকলে দ্রুত আমাদের সেক্টরে উন্নতি হবে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম ডেভিড জানান, মোংলা বন্দর ও পদ্মাসেতুর ফলে এখানে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক ভিড় করবে। এরইমধ্যে তারা বুকিং দিচ্ছেন।
দর্শনার্থীদের আগ্রহের কারণে পুরনো ৭টি পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি খুলনা ও বাগেরহাটে নতুন আরও চারটি ইকো টুরিজম সেন্টার প্রস্তুত করছে বন বিভাগ।
এ বিষয়ে বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, ‘অধিকসংখ্যক পর্যটক চাহিদা বিবেচনা করে সুন্দরবনে নতুন করে চারটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলেছি আমরা। এর মাধ্যমে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।’
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গড়ে প্রতিবছর ২ লক্ষাধিক দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে আসেন। আর এ খাতে বছরে গড়ে চার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে বন বিভাগ।
