নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারীর ৫ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আছে। এছাড়া তার বার্ষিক আয় ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ২০ টাকা।
নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় শামীম হায়দার পাটোয়ারী আয় ও সম্পদের এসব তথ্য উল্লেখ করেন।
পেশায় আইনজীবী শামীম পাটোয়ারীর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ পরিবারে নির্ভরশীল সদস্যদের কোনো আয় নেই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, স্ত্রী গৃহিণী এবং ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শামীম হায়দার পাটোয়ারীর বার্ষিক মোট আয় ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ২০ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে ৩ লাখ ২৪ হাজার ১০০ টাকা, বাড়িভাড়া থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৪৫ টাকা, শেয়ার/বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে ১৯ হাজার ৯৭৫ টাকা এবং আইন পেশা থেকে ১২ লাখ ১২ হাজার ৪০০ টাকা আয় করেন তিনি।
শামীম হায়দার পাটোয়ারীর অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য (অর্জনকালীন) ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বর্তমানে এই সম্পদের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৫ টাকা। এর মধ্যে তার কাছে নগদ আছে দেড় কোটি টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে জমা আছে ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪৯ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির শেয়ার ১২ লাখ ২৫ হাজার ৪৮৬ টাকা। এর বাইরে তার মালিকানাধীন মোটরযানের মূল্য ৯৬ লাখ টাকা এবং আসবাবের মূল্য ২ লাখ টাকা। নিজের কোনো গয়না নেই।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে শামীম হায়দার পাটোয়ারীর কৃষি ও অকৃষি জমির পরিমাণ উল্লেখ নেই; কিন্তু কৃষি ও অকৃষি জমির আর্থিক মূল্য দেখিয়েছেন ২ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষিজমির মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ১২ লাখ ৫২ হাজার টাকা এবং অকৃষি জমির মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ২ লাখ ৯১ হাজার টাকা।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী তার নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য নিজের সঞ্চয় ও ভাইয়ের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ করবেন বলে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন।
হলফনামার তথ্য থেকে জানা যায়, শামীম হায়দার পাটোয়ারীর ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ আছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে একক নামে ৩০ লাখ এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক হওয়ার সুবাদে আইআইডিএফসি ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ আছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলেও আয়, সম্পদ ও আয়করের পরিমাণ হলফনামায় উল্লেখ করেননি শামীম হায়দার।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দাখিল করা হলফনামায় শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির অথবা স্ত্রীর সম্পদবিবরণীতে বৈবাহিক সূত্রে পাওয়া ১০ ভরি স্বর্ণালংকার উল্লেখ করেন। যার মূল্য দেখানো হয় ১০ লাখ টাকা। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় কোনো স্বর্ণালংকারের কথা উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় ইলেকট্রনিক পণ্যের (ফ্রিজ ও টিভি) মূল্য বাবদ এক লাখ টাকা দেখানো হলেও এবার তা দেখানো হয়নি।
