হোম জাতীয় শতভরি স্বর্ণ চুরি: হাতে আঁকা ছবিতেই ধরা পড়ল সেই নারী

জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামে ১০০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যাওয়া গৃহকর্মী পারুলের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা থেকে রাশেদা ছদ্মনামে থাকা এ গৃহকর্মীকে গ্রেফতারের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৪ ভরি স্বর্ণালংকারসহ আটক করা হয়েছে তার আরও তিন সহযোগীকে।

গত ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের একটি বাসা থেকে একশ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়া পারুল ওরফে রাশেদাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। নাম-ঠিকানা কিংবা এনআইডি না পেয়ে হাতে আঁকা ছবি নিয়েই অভিযুক্তের সন্ধানে নেমেছিল পুলিশ।

রাশেদার চুরির কৌশলের কাছে একেবারেই হার মেনেছিল থানা পুলিশ। কিন্তু বিগত ২০১৩ সালে ঢাকার গুলশানের অপর একটি স্বর্ণালংকারের চুরির ঘটনার ক্লু ধরেই অনুসন্ধান শুরু করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। আর তাতেই একে একে গ্রেফতার হয় দলের ৪ জন। এর মধ্যে ষাটোর্ধ রাশেদা ফেন্সিডিল আসক্ত।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সাদিরা খাতুন বলেন, ‘গডফাদাররা রাশেদাকে দিয়ে কাজ করায়। তাকে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা গডফাদারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এবং তারা চুরি করা স্বর্ণালঙ্কার যে দোকানে বিক্রি করতো, সে দোকানদারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।’

পুলিশের অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিস্তৃত রয়েছে এই দলের নেটওয়ার্ক। এখন পর্যন্ত ঢাকা এবং চট্টগ্রামে বড় ধরণের ৯টি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এর সদস্যরা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে এই দলের সদস্যরা যেমন মোবাইল ব্যবহার করে না, তেমনি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে। চট্টগ্রামের চুরির পর গত ১৫ দিনে অন্তত তারা ৭টি জেলায় ঘুরে বেরিয়েছে। ২০১৩ সাল থেকেই এক সঙ্গে কাজ করছিলো তারা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার শেখ সাব্বির হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এ চক্রের সদস্যরা রয়েছে। তারা রাশেদাকে বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে নিযুক্ত করে। এখন পর্যন্ত তারা এমন নয়টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। আমরা সেগুলো তদন্ত করছি।’

১০০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার মামলার পাশাপাশি গ্রেফতারকৃত ৪ জনের বিরুদ্ধে আরও অন্তত ৫টি মামলার সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন