নড়াইল অফিস :
অদৃশ্য খাত দেখিয়ে ভূয়া টেন্ডার ও বিল ভাউচারের মাধ্যমে লোহাগড়া পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়, এডিপির উন্নয়ন প্রকল্প, টিআর, হাট বাজার ইজারা, স্থানীয় করসহ সরকারের সকল উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লোহাগড়া পৌরসভার বিভিন্ন অদৃশ্য খাদ দেখিয়ে ভূয়া টেন্ডার ও বিল ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাত করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় ২০২০-২১ অর্থ বছরে লোহাগড়া পৌরসভার অনুকুলে করোনা ও মশক নিধন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৯’শ ৯৮ টাকা বরাদ্ধ দেয়। বরাদ্ধকৃত অর্থের ব্যায় দেখাতে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শেখ স্যাইয়াদুল হক, ওই অর্থ বছরের শেষ দিন ৩০ জুন ২০২১ খ্রি: কাগজে কলমে দু’টিপ্যাকেজে কোটেশন দরপত্র আহবান করেন। ১ নম্বর প্যাকেজের প্রাক্কলিত মূল্য ৪ লক্ষ ৭১ হাজার ৯’শ ৯৯ টাকা। প্যাকেজটিতে চারটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহন করেছে মর্মে কাগজ পত্র প্রস্তুত করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হলো (১) মেসার্স বিশ্বাস এন্ড সন্স, প্রোপাইটর মো: জিয়াউলহুদা, (২) মেসার্স ফকির এন্টারপ্রাইজ, প্রোপাইটর মো: জাহিদুল ইসলাম, (৩) মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজ, প্রোপাইটর শেখইমরান হোসেন, (৪) মেসার্স তালুকদার ফোর্ট, প্রোপাইটর টি এম শফিউল আলম। অপর প্যাকেজের প্রাক্কলিত মূল্য ৫ লক্ষ ১৬ হাজার ৯’শ ৯৯ টাকা। প্যাকেজে চারটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহন করে। (১) মেসার্স বিশ্বাস এন্ড সন্স, প্রোপাইটর মো: জিয়াউল হুদা, (২) সান ট্রেডার্স, প্রোপাইটর মো: রবিউল ইসলাম রবি, (৩) মেসার্স ফকির এন্টারপ্রাইজ, প্রোপাইটর জাহিদুল ইসলাম, (৪) মেসার্স তালুকদার ফোর্ট, প্রোপাইটর টি এম শফিউল আলম। উভয় প্যাকেজে মেসার্স তালুকদার ফোর্টকে সর্ব নিম্ম দরদাতা দেখিয়ে প্রকৌশলী শেখ স্যাইয়াদুল হক তার পূর্বের কর্মস্থল মনিরাম পুর থেকে নামমাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার করোনা ও মশক নিধন সামগ্রী ক্রয় করেছেন। মনিরাম পুরের সাপ্লাইয়ার (দোকানি) একটি সি এনজি অটো রিক্সা যোগে প্রকৌশলী লোহাগড়া পৌরসভা নড়াইল বরাবরে ওই মালামাল প্রেরন করেন। মালামাল গুলো বিতরন না করে ষ্টোর জাত করে রেখেছেন যাহাতে ক্রয় ও টেন্ডার নিয়ে কোন প্রকার প্রশ্নের সম্মুখিন হলে উক্ত অবশিষ্ঠ মালামাল ষ্টোরে এবং অ-ক্রয়কৃত মালামাল বিতরন করা হয়েছে বলে চালিয়ে নিতে পারেন বলে নিশ্চিত করেছেন পৌরসভায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী। মেসার্স তালুকদার ফোর্টের ঠিকাদার টি এম শফিউল আলম পৌরসভার কর আদায়কারী সোনিয়া আফরোজের ভাই। চাকুরীর সুবাদে সোনিয়া আফরোজের সাথে প্রকৌশলীর রয়েছে বেশ সক্ষতা। সেই সক্ষতায় পৌরসভার অধিকাংশ প্রকল্পের অর্থ ভ‚য়া টেন্ডারে ঘুরে ফিরে ৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় মেসার্স তালুকদার ফোর্টের অনুকুলে বরাদ্ধ কৃত অর্থ ছাড় করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে আসছে।
পৌরসভার একাধিক ঠিকাদার বলেন, পৌরসভার প্রায় সব কাজই অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। নিরোপেক্ষ তদন্ত হলে অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত পৌরসভার থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। আরও জানা যায়, মেসার্স তালুকদার ফোর্টের প্রোপাইটর টি এম শফিউল আলম একজন প্রকৌশলী। তিনি সিলেটের একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকুরী করেন। দরপত্রের সময় তিনি সিলেটে কর্মরত ছিলেন।
উভয় দরপত্রের অপর ঠিকাদাররা বলেন, তারা এই দর পত্রের দুইটি প্যাকেজের বিষয়ে কিছুই জানেন না। সিডিউল ক্রয়, দরপত্র জমা এবং ব্যাংকের পেঅর্ডার কিছুই তারা করেন নাই। তবে যেহেতু আমরা ঠিকাদারী করি, পৌরসভার সাথে আমাদের ব্যবসার য়েছে। বকেয়া বিলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা পৌরসভার কাছে জিম্মি। আমাদের কাছে জানতে চাইলে দরপত্র জমা সহ সব কিছুই করেছি বলা ছাড়া কিছুই করার নাই। দরপত্রে ঠিকাদারের স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের অনেকে বলেন, স্বাক্ষর আমাদের নয়। স্বাক্ষর পরিক্ষা করলে ধরতে পারবে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শেখ স্যাইয়াদুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পৌরসভার যাবতীয় সব কিছুই মেয়র মহোদয় করেন। মেয়রের অনুমতি ছাড়া কারও কিছুকরা সম্ভব নয়।
পৌর মেয়র সৈয়দ মসিয়ুর রহমান বলেন, তিনি একই সাথে লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক। দলীয় ও সামাজিককাজে ব্যস্ত থাকায় প্রকৌশলী বিষয় গুলি দেখেন। কোন অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
