জাতীয় ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, পৃথিবী এখন বহুশক্তির দিকে যাচ্ছে। ফলে দেশগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক সুবিধাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয় সুর। তার মতে, শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফর এখন আর কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। বিষয়টি স্বাভাবিক।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র বাংলাদেশ সফর নিয়ে রোববার (১৫ জানুয়ারি) সময় সংবাদকে এসব কথা বলেন তিনি।
এদিকে দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ডোনাল্ড লু জানান, মানবাধিকার প্রশ্নে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর উন্নতি দেখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব শক্তিশালী করতেই তার এ সফর।
র্যাব নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে ডোনাল্ড লু আরও বলেন, মানবাধিকার ইস্যুতে অগ্রগতি করেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডোনাল্ড লু বলেন, ‘আপনারা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতি লক্ষ্য করলে দেখবেন, বিচারবহির্ভূত হত্যার সংখ্যা কমানোর ক্ষেত্রে র্যাবের অসাধারণ অগ্রগতির কথা স্বীকার করা হয়েছে। আমরাও এ অগ্রগতির বিষয়টি স্বীকার করি। এটি একটি অসাধারণ কাজ। এতে প্রমাণিত হয়, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে র্যাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে ভালো কাজ করছে।’
এক বছর আগে, ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে র্যাবের বর্তমান-সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
এমন নিষেধাজ্ঞায় ঢাকা তীব্র নিন্দা জানায়। নিষেধাজ্ঞা খুব বেশি পাত্তা না দিয়ে বাংলাদেশ বরাবরই বলে আসছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এরচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে আসছে।
এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিন গ্যাংয়ের বাংলাদেশে এক ঘণ্টার ঝটিকা সফর এবং চলমান মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জানান দেয় বলে মনে করেন ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
তার মতে, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় নিজেদের অধিকারের কথা বলছে জোরালোভাবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ যেন একক বলয়ে ঢুকে না যায়–এমন চিন্তা থেকেই মনোভাব বদলাতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
ড. ইমতিয়াজ আরও বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সমালোচনা করতে থাকে, তাহলে তো বাংলাদেশও উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে, সেখানে তারাও ভালো করে জানে, তাদের বিনিয়োগ আনতে হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে বড় আকারের ব্যবসা করতে হবে। আমি মনি করি, এখানে বড় আকারের সুযোগ তৈরি হয়েছে একটা উইন উইন পরিস্থিতিতে যাওয়া, কী আমেরিকার, কী চীনের বা রাশিয়ার।’
পৃথিবী বহুশক্তির দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশগুলো অর্থনৈতিক সুবিধাটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এক ঘণ্টা বা দুই দিনের জন্য পরাশক্তিধর দেশের ঊর্ধ্বতনদের সফরে আসা বাংলাদেশের জন্য এখন আর অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে যাওয়ায় এ ধরনের সফর ঘটতেই থাকবে। ঢাকা এ ক্ষেত্রে তার অর্থনৈতিক সম্পর্ককেই প্রাধান্য দেবে। একক কোনো বলয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ এখন আর থাকছে না। শক্তিধর দেশগুলোও তাদের অর্থনৈতিক লাভের হিসাবই করবে বলেও জানান ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ জোটনিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে এসেছে–এর সুফল এখন কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশ পাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।
