আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউক্রেনের সেভেরোদনেৎস্ক শহরে একটি রাসায়নিক কারখানায় রুশ বাহিনীর গোলাবর্ষণের পর আগুন লেগে গেছে। কারখানার ভেতরে আটকা পড়েছে অন্তত ৮০০ বেসামরিক নাগরিক। এদিকে রুশ অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে দোনবাস ছাড়ছে হাজারো মানুষ।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে চলছে তীব্র লড়াই। রুশ বাহিনীর মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণ চলছে সেভেরোদনেৎস্ক শহরে। শনিবার (১১ জুন) গোলার আঘাতে রেডিয়েটর থেকে কয়েক টন তেল লিক হওয়ার পর স্থানীয় একটি রাসায়নিক কারখানায় আগুন লেগে যায়। ওই রাসায়নিক কারখানার ভেতরে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ইউক্রেনের যোদ্ধাদের সঙ্গে অন্তত ৮০০ মানুষ আটকা পড়েছে। খবর বিবিসির।
কারখানাটি থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে রুশ বাহিনী। প্ল্যান্টটি তারা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। দোনবাসে লড়াই তীব্র হওয়ায় শহর ছেড়ে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষ। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ সামরিক অভিযানের মুখে শহরটির সব রেল ও বাস স্টেশনে এখন মানুষের ভিড়।
একদিকে যখন নিজ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ, তখন দখলে থাকা খেরসন ও মারিউপোল শহরের বাসিন্দাদের পাসপোর্ট দেয়া শুরু করেছে রুশ সরকার। রাশিয়ার গণমাধ্যমের দাবি, ওই সব এলাকায় মানুষ রুশ নাগরিকত্ব নিতে রাজি থাকায় তাদের পাসপোর্ট দেয়া শুরু হয়েছে।
তবে রাশিয়ার এমন কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির দাবি, বাসিন্দাদের জোর করে রাশিয়ার নাগরিক বানানো হচ্ছে, যা আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রকাশ্য লঙ্ঘন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রধানের কাছে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
এদিকে, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ। ইউক্রেন সরকারের তথ্যানুযায়ী, এ যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে। যদিও, এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
