বাণিজ্য ডেস্ক :
বাইশ বছর ধরে শুরু হওয়া রিহ্যাব ফেয়ারের এ বছরের পাঁচ দিনের আয়োজন শেষ হলো জাঁকজমকভাবে। বৈশ্বিক মন্দা ও করোনা-পরবর্তী সময়েও চলতি বছর আশানুরূপ বুকিং পেয়েছে বলে জানিয়েছে আবাসন কোম্পানিগুলো।
রোববার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় শেষ হয় ৫ দিনব্যাপী রিহ্যাব ফেয়ার ২০২২। এবারের মেলায়ও গত বছরের মতো ছোট ও মাঝারি আকারের ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি ছিল বলে জানায় আবাসন কোম্পানিগুলো। তবে ক্রেতারা জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছর ফ্ল্যাটের দাম বেশি।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রগুলোতে ফ্ল্যাটের আকাশচুম্বী দাম ও মেট্রোরেলের সুবাদে সুষম যাতায়াত ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে এবারের মেলায় ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় ছিল মিরপুর ও উত্তরার দিকের ফ্ল্যাটগুলো।
এ ব্যাপারে ফ্ল্যাট বুকিং দিতে আসা সায়েম খান নামে এক ক্রেতা সময় সংবাদকে বলেন, ‘আগে মিরপুরের দিকে ফ্ল্যাট কেনার কথা মনে হলেই মাথায় আসত যাওয়া-আসায় যে ঝাক্কি-ঝামেলা যাবে তাতে ফ্ল্যাটে থেকে পোষাবে না। তবে ক’দিনের মধ্যেই চালু হচ্ছে মেট্রোরেল। এতে যানজটের ভয় অনেকটাই কমে গেছে। একটানে মিরপুর বা উত্তরা থেকে মতিঝিল অফিসের দিকে চলে যাওয়া যাবে। মতিঝিলে ফ্ল্যাট কিনতে গেলে ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের দাম পড়ে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা। একই সাইজের ফ্ল্যাটের দাম মিরপুর-উত্তরার দিকে ৮০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা। দূরত্ব যখন মেট্রোরেল ঘুচিয়ে দেবে, তাহলে ওদিকে ফ্ল্যাট কিনতে আর সমস্যা নেই।’
মেলা শেষে রিহ্যাব আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চলতি বছর মেলায় প্রায় ৩৫১ কোটি ১৬ লাখ টাকার ফ্ল্যাট, প্লট ও বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি এবং বুকিং হয়েছে। এর মধ্যে ফ্ল্যাট ১৬৮ কোটি টাকা, প্লট ৮০ কোটি টাকা ও বাণিজ্যিক স্পেস ৫৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বুকিং ও বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক কমিটমেন্ট এসেছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে ২০২১ সালে রিহ্যাব ফেয়ারে ৪০০ কোটি টাকার বুকিং ও বিক্রি হয়েছিল। পাশাপাশি ব্যাংক কমিটমেন্ট এসেছিল প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বিক্রি কম কেন–জানতে চাইলে আবাসন কোম্পানিগুলো জানায়, গত বছর থেকে চলতি বছর ফ্ল্যাটের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ। সে হিসাবে যা বিক্রি হয়েছে তা সন্তোষজনক।
ফ্ল্যাটের দাম নিয়ে মেলার শেষদিন রিহ্যাবের সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সহসভাপতি (প্রথম) কামাল মাহমুদ বলেন, চলতি বছর ফ্ল্যাটের দাম বাড়ার কারণ রড-সিমেন্টসহ প্রায় প্রতিটি নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি। তার ওপর ড্যাপের বিল্ডিংয়ের উচ্চতা নিয়ে ফার সংক্রান্ত নীতিগুলো ফ্ল্যাটের দাম বাড়ার পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। আশা করা যায়, ড্যাপের ফার বাড়ানো হলে এবং আবাসনখাত নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা হলে ফ্ল্যাটের দামে স্বস্তি নেমে আসবে।
মেলায় ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে আবাসন কোম্পানিগুলো জানায়, আসলে ফ্ল্যাট বিক্রি মেলার মূল উদ্দেশ্য নয়। এখানে আসার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ব্র্যান্ডিং। এক ছাদের নিচে সব ক়টি ভালো আবাসন কোম্পানি থাকায় ক্রেতারা যাচাই-বাছাই করতে পারছেন। মেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও চিন্তাভাবনা করে সময় নিয়ে ক্রেতারা পরে বুকিং দিতে পারবেন।
তবে মেলায় যারা বুকিং দিয়েছেন, তাদের জন্য মূল্য হ্রাসসহ নানান অফার দিয়েছে আবাসন কোম্পানিগুলো। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়সহ ফ্রি এয়ার টিকিট এবং ঢাকা টু কক্সবাজার ভ্রমণের মতো আকর্ষণীয় অফারও দেয়া হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজিত এবারের মেলায় স্টল ছিল ১৮০টি। আবাসন কোম্পানি ছাড়াও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্টলও ছিল মেলায়। এতে একই ছাদের নিচে ফ্ল্যাট কেনার পাশাপাশি ঋণের ব্যাপারেও ক্রেতারা খোঁজখবর নিতে পেরেছেন। টিকিট বিক্রির হিসাব থেকে জানা যায়, চলতি বছর রিহ্যাব ফেয়ারে মোট ক্রেতা-দর্শনার্থী এসেছেন ১৬ হাজার ১৩২ জন।
