আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রাশিয়া থেকে গ্যাস, তেল ও কয়লা না আনার সিদ্ধান্তে অটল জার্মানি। মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দেশটির চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। তিনি বলেন, সম্পর্ক জোরদার নয়; বরং যুদ্ধই রাশিয়ার পছন্দ।
ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইইউ ও পশ্চিমা বিশ্বের আরোপ করা একের পর এক নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে দেশটি থেকে গ্যাস, তেল, কয়লা, ভোজ্যতেল কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য না আনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে জানান ওলাফ শলজ।
মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী বার্লিনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবের্তো মেটজোলার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। এ সময় চ্যান্সেলর শলজ আরও বলেন, ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদের ওপর রুশ বাহিনী যে নির্মমতা চালাচ্ছে, তাতে এমন সিদ্ধান্তের কোনো বিকল্প ছিল না।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, রাশিয়ার গ্যাস, তেল ও কয়লার ওপর আমাদের অর্থনীতি কতখানি নির্ভর, তবুও বলব, এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্তই যথার্থ। এরই মধ্যে আমরা রাশিয়ার ওপর থেকে এই নির্ভরতা কমিয়ে আনার সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই সমাধান পাব।’
রাশিয়ার বিপক্ষে নেওয়া এমন সিদ্ধান্তের কারণে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়তে হতে পারে জার্মানিকে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে গ্যাস, তেল ও কয়লা আমদানির চিন্তা করছে দেশটির সরকার। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন জার্মানির অর্থনীতি ও জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী রোব্যার্ট হাবেক। লক্ষ্য একটাই, শিল্পায়ন ও অর্থনীতিতে রাশিয়া থেকে আমদানি করা গ্যাস, তেল ও কয়লার ব্যবহার শতকরা ৫৫ শতাংশ থেকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা।
