হোম জাতীয় রামপালের দুটি ইউনিট সম্পূর্ণরূপে উৎপাদনে কবে আসবে জানালেন ভারতীয় হাইকমিশনার

জাতীয় ডেস্ক :

আগামী বছরের শুরুতে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট সম্পূর্ণরূপে উৎপাদনে আসবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

রোববার (১৮ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হয়েছে। রামপাল থেকে ঢাকায় বিদ্যুৎ আসা শুরু করেছে (পরীক্ষামূলকভাবে)। আশা করছি আগামী বছরের শুরুর দিকে রামপালের দুটি ইউনিট পুরোপুরি কাজ শুরু করবে।

ডিজেল মৈত্রী পাইপলাইন প্রসঙ্গে প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দ্রুতগতির ডিজেল মৈত্রী পাইপলাইনের কাজও আগামী বছরের শুরুর দিকে শেষ হবে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সহযোগিতায় এ প্রকল্পগুলো আমাদের জন্য ভূমিকা রাখবে।’

এর আগে শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম বলেন, প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৬০ মেগাওয়াট গোপালগঞ্জের আমিন বাজার হয়ে ঢাকার জাতীয় গ্রিডে এবং ২০০ মেগাওয়াট খুলনা-বাগেরহাটে সরবরাহ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের ৭৯ দশমিক ৩৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দ্বিতীয় ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াটের কাজ সম্পন্ন হবে। ২০২৩ সালের জুনে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার বলেন, ‘ধীরে ধীরে মেশিনের কার্যক্রম বাড়াচ্ছি। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে স্থানীয় বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এটি জাতীয় বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।’

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ একরাম উল্লাহ বলেন, ‘আমরা বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছি। পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে সব ধরনের কারিগরি কাজ করা হয়েছে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’

২০১০ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসি লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে কোম্পানি গঠিত হয়। এই কোম্পানির অধীন ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) নামে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়। রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী কৈ-গর্দ্দাশকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ শেষে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়।

২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই শুরু হয় জমি ভরাট ও সড়ক নির্মাণের কাজ। প্রায় নয় বছর বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে গেল প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে এ বছরের ১১ জুলাই বয়লার স্টিম ব্লোয়িং স্থাপন করা হয়। এক মাস পর ১৪ আগস্ট টারবাইন-এ স্টিম ডাম্পিং এবং এক দিন পর ১৫ আগস্ট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ (ট্রান্সমিশন) শুরু করা হয়।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন