জাতীয় ডেস্ক :
পানির অপর নাম ‘জীবন’ হলেও রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের কাছে এ পানির অপর নাম ‘মরণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াসার পানির চাপ কম থাকার সঙ্গে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে ময়লা ও দুর্গন্ধ। এ দুর্গন্ধযুক্ত পানি না করা যাচ্ছে পান, না যাচ্ছে গোসল কিংবা রান্নার কাজে ব্যবহার।
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঘুরে দেখা যায়, এখানকার বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করছে, তা দেখতে স্বচ্ছ মনে হলেও জগে নিতেই বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। পানিতে ভাসছে ময়লা, সঙ্গে তীব্র দুর্গন্ধ।
এক যুগে পানির দাম তিনগুণ বাড়ালেও এমন ময়লা আর দুর্গন্ধযুক্ত পানিই সরবরাহ করছে ঢাকা ওয়াসা। ফিল্টারের স্বচ্ছ পানির পাশে রাখলে যার পার্থক্যটা আরও স্পষ্ট হয়।
দিনের পর দিন এমন অপরিষ্কার আর ঝাঁজালো গন্ধের পানি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন তারা। হটলাইনে অভিযোগ করলে ওয়াসা বারবার খোঁড়াখুঁড়ি করলেও স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না।
এলাকাবাসী বলছেন, দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার ওয়াসার লাইন থেকে পানির সঙ্গে আসে কেঁচো। সেগুলো সরিয়ে নিত্যদিনের রান্না সারতে হয় তাদের। এ সমস্যা থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে ট্যাপের মুখে কাপড় বেঁধে নিলে কেঁচো সরাসরি বাইরে না এলেও দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে তা পান করার অযোগ্য।
এ বিষয়ে ওয়াসার এক কর্মী জানান, রাতের আঁধারে এলাকাবাসী নিজেরাই লাইন কাটায় স্যুয়ারেজ ও ওয়াসার লাইন এক হয়ে যাচ্ছে।
ওয়াসার পানি নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও ওয়াসার ওয়েবসাইটে পাওয়া গেল না কোনো হালনাগাদ তথ্য। সবশেষ হালনাগাদ জুন, ২০১৯-এ।
এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসা কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরির প্রধান ড. মো. আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ওয়েবসাইটে তথ্য হালনাগাদ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানান।
ওয়াসার উপপ্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা এ এম মোস্তফা তারেক জানান, ওয়াসার ওয়েবসাইটে দ্রুতই তথ্য হালনাগাদ করা হবে। এ ছাড়াও ওয়াসার পানি সরবরাহে কোনো ধরনের অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
