জাতীয় ডেস্ক :
জ্বালানি তেলের পর এবার বাস ভাড়াতে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ইচ্ছে মতো যাত্রীদের ‘গলা কাটছেন’ পরিবহন শ্রমিকরা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর বাস ভাড়া বেড়ে যাওয়াকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন তারা।
অন্যদিকে গ্যাসের দাম না বাড়লেও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরাও ভাড়া হাঁকছেন ইচ্ছেমতো। বাদ নেই উবার, পাঠাও এর মতো রাইড শেয়ারের বাইক চালকরাও। এদিকে লঞ্চ মালিকরাও ১০০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে রোববার (০৭ আগস্ট) গণপরিবহনে দিনের শুরুই হয়েছে যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ভাড়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা নিয়ে।
নগরীর ভেতরে সরকার নির্ধারিত বাস ভাড়া ৩৫ পয়সা বেড়ে কিলোমিটার প্রতি নির্ধারিত হয়েছে আড়াই টাকা। কিন্তু কে শোনে কার কথা। যার কাছে যেমন পারছেন তেমনটাই নিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। সেটি যে অন্যায় তা আবার স্বীকারও করেছেন কেউ কেউ। তবে দোষ দিচ্ছেন বাস মালিকদের।
বাহন পরিবহনের সুপারভাইজার বলছেন, ওয়েবিল বেশি নেবার আদেশ দিয়েছেন মালিক।
জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এটা বাস্তবতা। কিন্তু গ্যাসের দাম আগের মতোই আছে। তারপরও যে বাহন চলে গ্যাসে সেটিও হাঁকছে বাড়তি ভাড়া। তবে তা বলতে গেলে উল্টো ক্ষেপছেন, চালকরাই।
এক অটোরিকশার চালক ক্ষেপে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন আমার কাছে আইছেন কেন (আমার কাছে এসেছেন কেন) যারা দুর্নীতি করে তাদের কাছে যান।
রাইড শেয়ারের বাইক চালকরাও চলছেন বেশি ভাড়ার চুক্তিতে। যদিও পরিবহন শ্রমিকদের মতো তাদেরও দাবি ভাড়া বাড়েনি।
এতো গেল নগরীর ভেতরের গল্প। দূরের যাত্রার মানুষেরও শান্তিতে নেই। ভাড়া বেড়েছে নিয়ননীতি ছাড়াই। তবে উল্টো যুক্তি কাউন্টার কর্মীদের।
এ যখন দশা তখন রাজধানীর কোথাও ছিল না বিআরটিএ কিংবা বাস মালিকদের তদারকি। শনিবার রাজধানীতে গণপরিবহন কম থাকলেও ভাড়া বৃদ্ধির সুযোগে রোববারের চিত্র ছিল পুরোপুরি উল্টো।
এদিকে গতকাল শনিবার (০৬ আগস্ট) জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ান হয় গণপরিবহনের ভাড়া। মহানগরীতে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২টাকা ১৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়। এছাড়া আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে প্রতি কিলোমিটারে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছে।
এদিকে বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (৭ আগস্ট) থেকে এ ভাড়া কার্যকর।
এর আগে শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পরিশোধিত এবং আমদানি/ক্রয় করা ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য সমন্বয় করে ভোক্তা পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের ভেতর ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য ডিজেল ১১৪ টাকা প্রতি লিটার, কেরোসিন ১১৪ টাকা প্রতি লিটার, অকটেন ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার ও পেট্রোল ১৩০ টাকা প্রতি লিটার হবে। শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে কার্যকরের কথা বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
আগে ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য ছিল প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকা, কেরোসিন ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা ও পেট্রোল ৮৬ টাকা।
