হোম জাতীয় রসিক নির্বাচন : মনোনয়নপত্র প্রত্যাহরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার, গুছিয়ে উঠতে পারেনি আ.লীগ

জাতীয় ডেস্ক :

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। তবে এখনও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী আর অগোছালো অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেনি আওয়ামী লীগ। পক্ষান্তরে সবকিছু গুছিয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নামছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি। অন্য প্রার্থীদের প্রস্তুতিও বেশ ভালো।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আর শুক্রবার দেয়া হবে প্রতীক বরাদ্দ। এরপর শুরু হবে প্রচার-প্রচারণা।

নেতাকর্মীরা প্রস্তুত থাকলেও দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন রংপুর মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই। এ জন্য দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেন নেতাকর্মীরা। তবে প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া বলেন, ‘দলীয় প্রধান আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, দলীয় কোন্দল নিরসনের দায়িত্ব দেননি।’

নানা ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে সবাই প্রস্তুত বলে দাবি করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষারকান্তি মন্ডল।

অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে দলীয় প্রার্থী হেরে যেতে পারেন–এমন আশঙ্কার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘এ কথা মোটেও ঠিক নয়।’ নেতাকর্মীরা মাঠে থাকলেও কেন তাদের কাজে লাগাতে পারছেন না? দলীয় প্রার্থীকে এই প্রশ্ন করার পরামর্শ দেন তিনি।

মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা বলেন, ‘আমরা ডালিয়া আপার সঙ্গে কাজে নেমেছিলাম। মহানগর ও জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি (ডালিয়া) একমত হলেও এক দিন পরই সিদ্ধান্ত থেকে সরে যান।’

ওই নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রার্থীর অসহযোগিতার কারণে নিজেরা চাইলেই কাজ করতে পারছি না। কোনোভাবেই তাকে বোঝানো যাচ্ছে না।’

এর আগে নির্বাচনের কোনো অভিজ্ঞতা হোসনে আরার নেই বলেও জানান তিনি।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো কোন্দল বা দ্বন্দ্ব নেই দাবি করে বলেন, ‘আমরা মাঠে আছি।’

তিনি সরাসরি কোনো অভিযোগ না করলেও বলেন, ‘প্রার্থী পরাজিত হলে তার অন্য কোনো কারণ থাকবে।’

প্রার্থীর দিক থেকে সাড়া না পাওয়ার একই রকম অভিযোগ করেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ ও সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আহমেদ।

আর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম বাজুর ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন, তিনি (বাজু) অপেক্ষায় থাকলেও প্রার্থীর দিক থেকে অনাগ্রহের কারণে তিনি কিছু করতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বলেন, লজ্জাজনক হারের চেয়ে মাঠ ছেড়ে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এদিকে, বিদ্রোহী যে দুজন প্রার্থী এখনও ভোটের মাঠে অনড়; তাদের একজন স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর কমিটির সভাপতি আতাউর জামান বাবু বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির ঘনিষ্ঠ। বাণিজ্যমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে এলেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মাঠে আছেন। এরই মধ্যে টিপু মুনশি তার নির্বাচনী এলাকায় এসে ঘুরে গেলেও তাকে কোনো নির্দেশনা বা পরামর্শ দেননি বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার লতিফুর রহমান মিলন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। এরই মধ্যে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও কৌশল নির্ধারণ করে শক্তভাবেই মাঠে নেমে পড়েছে তার কর্মী বাহিনী।

মিলন জানিয়েছেন, তিনি দলের মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে প্রার্থী হননি। সরাসরি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তাই কারো অনুরোধে তিনি নির্বাচনের মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খোদ আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ, বিশেষত তরুণ-যুবকরা এই প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় অনেকেই নামবেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এ অবস্থায় দলীয়ভাবে কোনো রকম উদ্যোগ না থাকায় চরম হতাশা প্রকাশ করেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। অবশ্য দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ওই দুজনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে সময় সংবাদকে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রী রোজি রহমান।

আর অনেক আগে থেকেই সবুজ সংকেত পেয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনের মাঠ গুছিয়ে এনেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তফসিল ঘোষণার আগে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের তাকে দলের প্রার্থী ঘোষণা দিলেও দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ আলাদা প্রার্থী দেবেন বলে গুঞ্জন ওঠে। নানা নাটকীয়তার পর শেষে মোস্তফাকেই সমর্থন দেন তিনি।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন