হোম আন্তর্জাতিক যেভাবে রোজা পালন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবাসীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ত্যাগ ও সংযমের মাস রমজান। সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় সব রকম ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে মুক্ত থাকেন বিশ্বের মুসলমানেরা। উদ্দেশ্য একটাই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এশিয়ার সবচেয়ে কর্মব্যস্ত দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। রোজা রেখে কারখানায় কাজ করেন এখানকার প্রবাসী মুসলিমরা।

কাজের ফাঁকে সেরে নিতে হয় সাহ্‌রি ও ইফতার। তার মধ্যেও রোজা পালন করে খুশি এখানকার প্রবাসীরা। তবে রমজানে ছুটির দিনগুলো খুবই আনন্দে কাটে বাংলাদেশি প্রবাসীদের। ছুটি পেলেই বন্ধুদের নিয়ে চলে রকমারি ইফতারের আমুদে আয়োজন।

এখানকার প্রবাসীরা বন্ধুদের সাথে নিয়ে এককাতারে আদায় করে তারাবির নামাজও। সময় পেলে কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল দেখা যায় অনেককেই। এক কথায় প্রবাসীরা কাজের পাশাপাশি রমজানে খুব ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটায়।

রমজান উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিগুলোর পক্ষ থেকে কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। কমিউনিটির সাথে প্রবাসীদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

কোরিয়ার আনসান মসজিদের ইমাম ও খতিব মোমতাজুল হক বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। এখন আমরা খুব সুন্দরভাবে সিয়াম পালন করছি। মসজিদগুলো খুলে গিয়েছে, সবাই মসজিদে আসছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার মসজিদগুলোতে ইসলামের প্রচার- প্রসার দিন দিন বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, আনসান ও সিউল কেন্দ্রীয় মসজিদে করোনা মাহামারির আগের রমজানে ছুটির দিনে আড়াই থেকে তিন হাজার প্রবাসী একসাথে ইফতারের আয়োজন করা হতো। যদিও এখন ছোট পরিসরে করা হয়।

এদিকে, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধর্মীয় উপসনালয়গুলোতে বিধিনিষেধ থাকলেও এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক করে দিয়েছে কোরীয় সরকার। এ দেশের সরকার ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে থাকে বলে জানিয়েছে কোরিয়া মুসলিম ফেডারেশন (কেএমএফ)।

মুসলিম সংখ্যালঘুর দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। এক হাজার দুইশ দশ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটির জনসংস্যা ৫ কোটি ১৩ লাখ। পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ বৌদ্ধ ও ২৯ শতাংশ খ্রিস্টান। প্রায় ৪৬ শতাংশ কোরীয় নাগরিক নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম পালন করেন না।

দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। মোট জন্যসংখ্যার ২ শতাংশ মুসলিম। সেই সাথে দেড় লাখ বিদেশি মুসলিম রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে ২৫টি মসজিদ, ৫টি ইসলামিক সেন্টার ও ২০০টি ছোট মসজিদ রয়েছে। ১৯৬৯ সালে কোরিয়ান সরকার প্রদত্ত জমিতে গড়ে ওঠে সিউল কেন্দ্রীয় মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার।

তবে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে কোরীয়দের মধ্যে। এতে অনেক কোরিয়ান ইসলাম ধর্মগ্রহণ করছেন। যার সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে।
দক্ষিণ কোরিয়া মুসলিম সংখ্যালঘুর দেশে মসজিদে তারাবির নামাজ থেকে শুরু করে ছোট ছোট ইফতারের অনুষ্ঠান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন দেশটিতে অবস্থানরত মুসলিম প্রবাসীরা।

কর্মব্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় কারখানায় নির্ধারিত কর্মঘন্টার পাশাপাশি সিয়াম পালন করেন এখানকার প্রবাসী মুসলিমরা। বাহির থেকে ইফতার কেনার কোনো ব্যবস্থা নেই এদেশে। রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে হলেও হিসেব করে খেতে হয়, কারণ হালাল-হারামের প্রশ্ন থেকেই যায়।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন