আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদে আলোচনার আয়োজন করতে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ইসলামাবাদ জানিয়েছে, যদি বিবদমান পক্ষগুলো সম্মত হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে পাকিস্তান সবসময় প্রস্তুত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি বলেন, ‘উভয় পক্ষ চাইলে ইসলামাবাদ আলোচনার আয়োজন করতে আগ্রহী। পাকিস্তান বরাবরই আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার একদিন পরেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এল। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সাথে বর্তমানে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ আলোচনা চলছে।
যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি—পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক গত কয়েকদিন ধরে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এই দেশগুলো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গোপন বার্তা আদান-প্রদান করছে বলে জানা গেছে। কিছু অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে পারেন, যদিও কোনো পক্ষই এখনও এর সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
এদিকে এই কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে গত রবিবার ট্রাম্পের সাথে কথা বলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির । এর একদিন পর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ফোন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে পৃথকভাবে ফোনালাপ করেছেন।
