জাতীয় ডেস্ক:
কুমিল্লার দেবিদ্বারের আলোচিত শান্ত হত্যা মামলার ৫ নম্বর সাক্ষী ছিলেন সাজিব। সেই সাক্ষী সাজিবই চাকু দিয়ে হত্যা করে শান্তকে। হত্যা করে সাক্ষী বনে যাওয়া ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে কুমিল্লা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে শান্ত হত্যাকাণ্ডে সাজিবের সম্পৃক্ততার প্রমাণ। সাজিব চাকু দিয়ে শান্তকে তলপেটে আঘাত করে। আর সেই আঘাতেই নিহত হয় মেহেদী হাসান শান্ত। তদন্তের বিষয়টি মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকালে নিশ্চিত করেন পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
পিবিআই সূত্র জানায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেবীদ্বারের নুরপুরে গত বছরের ঈদুল আজহার আগের দিন আসামি সাজিব ও আল আমিনের মাঝে তর্কাতর্কি হয়। তাদের হট্টগোল শুনে সেখানে আরও উৎসুক জনতার ভিড় হয়। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র পলাতক অভিযুক্ত সাজিব তার পকেটে থাকা চাকু (সুইস গিয়ার) দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এতে আল আমিনসহ চারজন গুরুতর আহত হয়। এ সময় শান্ত সাজিবকে থামাতে পেছন থেকে আঁকড়ে ধরলে সাজিব শান্তর তলপেটে চাকু দিয়ে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শান্ত। সাজিব মোটর সাইকেলে পালিয়ে গেলে শান্তকে স্থানীয়রা দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিআইবি কুমিল্লার পরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আলোচিত হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করে। প্রতিটি আলামত ও সাক্ষীর কথা বিশ্লেষণের পর বেরিয়ে আসে আসল হত্যাকারীর পরিচয়। মামলার চারজন সাক্ষী আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক বক্তব্য দেন। এতে করে সাজিবের দ্বারা শান্তকে হত্যার বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, গত ২০২২ সালের ৯ জুলাই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নুরপুরে আমেরিকা প্রবাসী সজীবের চাকুর আঘাতে শান্তের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরও চারজন। নিহত মেহেদী হাসান শান্ত ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের সরকার বাড়ির জাকির হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত সাজিব যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রয়েছেন।
