খেলাধূলা ডেস্ক :
আর্জেন্টাইন তারকা পাওলো দিবালাকে নিয়ে চিন্তা বাড়ছিল আর্জেন্টিনা সমর্থকদের। এক সময় মেসির পর যাকে দলটার ভবিষ্যৎ ভাবা হট সেই ‘লা জয়া’ য়্যুভেন্তাসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে এতদিন ফ্রি এজেন্ট হিসেবেই ছিলেন। প্রথমে ইন্টার মিলান তার সম্ভাব্য গন্তব্য ভাবা হলেও রোমেলু লুকাকু চেলসি থেকে মিলানের দলটাতে ফিরে আশায় মিইয়ে যায় সে সম্ভাবনা। অবশেষে ঠিকানা পাচ্ছেন দিবালা। ২৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন যোগ দিচ্ছেন ইতালিরই আরেক ক্লাব এএস রোমায়।
ফ্রি এজেন্ট হওয়ার পরই রোমার পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহো দিবালার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সে সময় তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন স্পেশাল ওয়ানকে। মূলত ইন্টার মিলানে যোগ দেওয়াটা নিশ্চিতই ছিল তার। কিন্তু বেতন নিয়ে উভয়পক্ষ সম্মতিতে পৌঁছার আগেই লুকাকুর ধারে চেলসি থেকে ইন্টার মিলানে ফিরে আসা নিশ্চিত হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর ইন্টার মিলানকে শিরোপা জেতানো স্ট্রাইকার ফিরে আসায় দিবালার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে ক্লাবটি। এদিকে অন্য কোন ক্লাবের পক্ষ থেকেও তেমন ভালো প্রস্তাব ছিল না তার জন্য।
তাই দ্বিতীয় দফা চেষ্ঠা করতেই সফল স্পেশাল ওয়ান। প্রথম দফার মতো এবার আর বিনয় দেখিয়ে ফেরাতে পারেননি দিবালা। রোমাতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন দিবালা। ইতালির দুই নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো ও জিয়ানলুকা দি মারজিও নিশ্চিত করেছেন, রোমায় যাওয়াটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। চুক্তির কাগজপত্র গোছানো ও সইয়ের মতো আনুষ্ঠানিকতাই শুধু বাকি।
য়্যুভেন্তাসের এই সাবেক তারকার সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করছে রোমের ক্লাবটি। চুক্তি অনুযায়ী বছরে সাকুল্যে ৬০ লাখ ইউরো বেতন পাবেন ২৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
দিবালার নতুন দল পাওয়াটা আর্জেন্টিনার জন্য স্বস্তি। বিশ্বকাপের বছরে দিবালার এখনো দল না পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কলানি। এমনটা জানা গিয়েছিলো গণমাধ্যম মারফত। এবার নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তামুক্ত হচ্ছেন কোচ।
দিবালাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী ছিল এসি মিলানও। তবে ফ্যাব্রিজিও রোমানো জানাচ্ছেন, রোমার সঙ্গে এই চুক্তিতে মুল প্রভাবক ছিলেন স্বয়ং মরিনহো। দিবালাকে কেন্দ্র করে দল সাজাতে চান রোমাকে তাদের ইতিহাসে প্রথম কোন ইউরোপিয়ান ট্রফি এনে দেওয়া কোচ। তার পরিকল্পনা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের এতই পছন্দ হয়েছে যে, ইন্টার মিলানের প্রস্তাবিত বেতনের চেয়ে কমেই রাজি হয়ে গেছেন। রোমার মতো ইন্টার মিলানও ৬০ লাখ ইউরো বেতন দিতে চেয়েছিলও, কিন্তু সেখানে বেতনের সঙ্গে পারফরম্যান্স বোনাসসহ শর্তপূরণ সাপেক্ষে আরও বেশি অর্থ আয় করতে পারতেন তিনি।
মরিনহোর অধীনে এর আগে ডিয়েগো মিলিতো, জানেত্তি, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ারা সফল হয়েছিলেন। এখন দেখার বিষয় দিবালা কতটুকু সফল হতে পারেন স্পেশাল ওয়ানের ছোঁয়ায়।
