হোম খুলনাবাগেরহাট মোংলা বন্দরের নির্মিত হলো আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ প্রকল্প

মোংলা বন্দরের নির্মিত হলো আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ প্রকল্প

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 61 ভিউজ
জসিম উদ্দিন:
বাংলাদেশে প্রথম মোংলা বন্দরে নির্মিত আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা  ও নিঃসৃত তেল অপসারণ প্রকল্পের উদ্ধোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার(২৭ জানুয়ারী) দুপুরে মোংলা –ঘষিয়াখারী চ্যানেলের পাড়ে নির্মিত নতুন এ প্রকল্পের উদ্ধেধন করেন, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। এর ফলে বাস্তবায়ন হলো মারপোল কনভেনশন আইন।
প্রায় ৬শ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ওই প্রকল্পের উদ্ধোধন শেষে সাংবাদিকদের নৌ পরিবহন উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশে এ প্রথম মোংলা বন্দরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নির্মান করা হয়েছে। এটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে নির্মান করা হলো। এ প্রকল্পের সুবিধা অসুবিধা বুঝে পরবর্তীতে চট্রগ্রাম বন্দর ও ফায়রা বন্দরে এমন আরো দুইটি প্রকল্প নির্মান করতে হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী সমুদ্র বন্দরে বর্জ্য ও তেল নি:সৃত প্রকল্প থাকতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান, বন্দর কতৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (অর্থ) ও পরিচালক (প্রশাসন) (অ:দা:) কাজী আবেদ হোসেন (যুগ্মসচিব), সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান (যুগ্মসচিব), পরিচালক (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহ (যুগ্মসচিব), হারবার মাষ্টার ও প্রকল্প পরিচালক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ সকল বিভাগীয় প্রধান ও বন্দরের সকল স্তরের কর্মকর্তা—কর্মচারী এবং বন্দর ব্যবহারকারীগণ।
মোংলা বন্দর কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান জানান, বাংলাদেশ মারপোল কনভেনশন( গধৎঢ়ড়ষ ঈড়হাবহঃরড়হ)এর স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজস্ব সমুদ্রসীমাকে জলযান হতে সৃষ্ট দূষণ হতে রক্ষার জন্য বদ্ধপরিকর। এর আওতায় আন্তর্জাতিক বন্দরসমূহ কার্যকরী এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ—সুবিধা সম্বলিত এর ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে থাকে। এই ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকলে সামুদ্রিক দূষণ পরিহার করে জলযানসমূহের বর্জ্য নিরাপদে নিষ্কাশন করা নিশ্চিত হয়। বাণিজ্যিক জাহাজ হতে নির্গত বর্জ্য ও দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজ হতে নিঃসৃত তেল সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অপসারণ ও পরিশোধন করার সক্ষমতা অর্জন যে কোন আন্তর্জাতিক বন্দরের জন্য বাধ্যতামূলক মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, মোংলা বন্দর নবনির্মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পর স্থাপনের মাধ্যমে সেই মানদন্ড নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক মারপোল কনভেনশন এর সকল শর্তাবলি নিশ্চিত করে নির্মিত এই প্লান্টটি বন্দরে আগত সকল বাণিজ্যিক জাহাজ হতে দূষিত তরল ও অন্যান্য বর্জ্য নিরাপদে স্থানান্তর ও পরিশোধন করে পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
বন্দর সুত্র বলছে,বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রধান প্রধান কম্পোনেন্ট এর মধ্যে রয়েছে ২ টি তেল অপসারণকারী জলযান, ১ টি বর্জ্য সংগ্রহকারী জলযান, পিআরএফ প্লান্ট, ১টি ডাম্প বার্জ, ১টি সেল্ফ প্রপেল্ড বার্জ, ১টি সার্ভিস টাগ বোট, ১ টি পন্টুন এবং নির্মান করা হয়েছে জেটি ও ইয়ার্ড।
মোংলা বন্দর কতৃপক্ষের হারবার মাস্টার ও এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, বন্দরের বিশেষায়িত জাহাজসমূহের মাধ্যমে বন্দর ও বহিনোঙরে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ হতে যথাসময়ে দূষিত পানি মিশ্রিত তেল ও বর্জ্য সংগ্রহ করে প্লান্টের নিজস্ব জেটিতে নিয়ে আসা হবে। এরপর সংগ্রহকৃত সামগ্রীকে বিশেষায়িত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে পরিশোধনের ধরন নির্ধারণ করা হবে। প্লান্টের পরিশোধনাগারে দক্ষ প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে সংগ্রহকৃত বর্জ্য গুলো পরিবেশ বান্ধব করে তোলা হবে। নবনির্মিত এই প্লান্টের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট হলো এটি সংগৃহীত বর্জ্যসমূহ পরিশোধনের পাশাপাশি পুনরায় তা ব্যবহারযোগ্য তরল ও অন্যান্য উপাদানে রূপান্তর করে যা পরবর্তীতে বিভিন্ন কলকারখানার কাঁচামাল ও জ্বালানী হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। এই প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত পরিমান তৈলাক্ত বর্জ্য পরিশোধন করে প্রায় ৮৫% পানি, ১২% ব্যবহারযোগ্য জ্বালানী ও ৩% ছাই উৎপাদিত হয়। এই সকল জ্বালানী সাশ্রয়ী মূল্যে কলকারখানায় ব্যবহারযোগ্য বিধায় উৎপাদন খরচ হ্রাসে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর একনেকে এ প্রকল্প অনুমোদন পায়। তখন এ প্রল্পের ব্যয় ধরা হয়ে ছিলো ৪০১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। নির্মান কাজ শেষ করতে প্রকল্পে ব্যয় হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা। বন্দর কতৃপক্ষ জানায় ডলারের মুল্য বৃদ্ধির ফলে প্রকল্পের নির্মান ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন