মোংলা প্রতিনিধি :
মোংলায় এক স্কুল ছাত্রীকে ভারতে পাচারে ব্যার্থ হয়ে তাকে ঢাকায় ফেলে পালিয়ে যায় সংঘবদ্ধ পাচারকারীরা। জান্নাতের প্রতিবেশি ময়না ও জাহানারা তাকে পাচার করতে চেয়ে ব্যার্থ হয়। জান্নাত মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের বৌদ্যমারী গ্রামের জালাল ব্যাপারীর মেয়ে। পরে পাচারকারীদের হাত থেকে ঘটনার তিনদিন পর ওই স্কুল ছাত্রীকে তার এক ফুফাতো ভাই তাকে উদ্ধার করে মোংলায় নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় প্রতিবেশি লাল মিয়া ব্যাপারীর মেয়ে ময়না বেগম ও আজিত মৃধার মেয়ে জাহানারা বেগমের, বিরুদ্ধে গত ২৫ জানুয়ারী থানায় অভিযোগ দিলেও রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত মামলা নেয়নি পুলিশ। অভিযোগ নেওয়ার ব্যাপারেও পুলিশ গড়িমশি করেন বলেও দাবি করেন, জালাল ব্যাপারী। জানতে চাইলে এ বিষয়ে মোংলা থানার সেকেন্ড অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগটি মামলা হওয়ার মত ঘটনা না বিধায় আমলে নেওয়া হয়নি।
তবে বাদী পক্ষের অভিযোগ মামলা নেওয়া হবে বলে পুলিশ তাকে এখনও ঘুরাচ্ছে। থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ সুত্র ও স্কুল ছাত্রী জান্নাতের বাবা জালাল ব্যাপরী বলেন, ঘটনার দিন গত ১৩ জানুয়ারী বিকেলে পাশ্ববর্তী একটি পুকুরে পানি আনতে গিয়ে তার মেয়ে আর বাসায় আসেনি। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর মেয়েকে না পাওয়া গেলে পরদিন ১৪ জানুয়ারী মোংলা থানায় সাধারণ ডাইরী করেন জালাল ব্যাপারী। এরপরে তিনি লোকমাধ্যমে জানতে পারেন প্রতিবেশি ময়না ও জাহানারা তার মেয়েকে অপহরন করে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে ঢাকায় নিয়ে যায়।
১৫ জানুয়ারী ভোরে অপহৃত স্কুল ছাত্রী জান্নাত খানম পাচারের খবর জানতে পেরে কৌশলে তার ফুফাতো ভাই নাঈমকে ফোন করলে ঢাকার নবীনগরের দিগন্ত বাস কাউন্টার গিয়ে থেকে তাকে উদ্ধার করে। এসময় পাচারকারী ময়না ও জাহানারাসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে জান্নাতের চাচা ও ফুফাতো ভাইরা তাকে মোংলায় নিয়ে আসে।
পরে ঘটনাটির বিস্তারিত শুনে ময়না ও জাহানারাকে অভিযুক্ত করে গত ১৬ জানুয়ারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্কুল ছাত্রী জান্নাতের বাবা জালাল ব্যাপরী। তবে ঘটনার এতদিন পার হলেও রহস্যজনক কারনে এখন পর্যন্ত অভিযোগটি আমলে নেয়নি পুলিশ। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মোংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, এ ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।
s
