জাতীয় ডেস্ক :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনায় প্রতিদিনই পানি বাড়ার ফলে মেঘনা রেলসেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। উজানের পানি কমতে থাকায় ভৈরবের কালি ও মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে করে ভৈরবের গজারিয়া, শ্রীনগর সাদেকপুর ও আগানগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে না গেলেও রাস্তা-ঘাট ডুবে যাত্তয়ায় দুর্ভোগের স্বীকার হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভৈরব বাজার মেঘনা নদীর পানি বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুই সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও শুক্রবার (২৪ জুন) সারাদিন পানি স্থির রয়েছে।
শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মেঘনার পানির লেভেল রয়েছে ৫.১৪ মিটার। বিপৎসীমা হলো ৫.৮০ মিটার। বর্তমানে বিপৎসীমার চেয়ে ৬৬ সেন্টিমিটার নিচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
মেঘনা নদীর পাড়ঘেঁষা কিশোরগঞ্জের অন্যতম একটি উপজেলার ভৈরব। এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৮৪টি গ্রাম রয়েছে। তাদের মধ্য উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়ন, শ্রীনগর ও আগানর ইউনিয়ন মেঘনার তীরে অবস্থিত হত্তয়ার কারণে ওই এলাকার বিদ্যুতের খুটি ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন তার নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর, বধুনগর, মাধবপুর, ভবানীপুর এলাকার যোগাযোগের অন্যতম সড়কটি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে হাজার মানুষ হয়ে পড়েছে পানিবন্দি। শিমুলকান্দি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে উজানের পানি পানি প্রবেশ করে কয়েকটি মাছের ঘের ডুবিয়ে দিয়েছে। সেসব ঘের বা পুকুরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পানিতে ভেসে গেছে বলে পুকুর মালিকদের দাবি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান জানান, সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার বন্যার পানি ভৈরব বাজার মেঘনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে থাকে। সেজন্যই উজানের পানি আসায় প্রতিদিনই বাড়ছে মেঘনার পানি। শুক্রবার বিকেলের হিসেব মতে উজানে পানি বিপৎসীমার ৬৬ সে.মি নিচ দিয়ে মেঘনা নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
