হোম জাতীয় মেঘনায় ভাঙন, কষ্টে কেনা ফ্রিজ বের করতে গিয়ে মৃত্যু

জাতীয় ডেস্ক :

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনায় হঠাৎ করেই তীরে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয় বসতঘর। এ সময় বহু কষ্টে কেনা সাধের ফ্রিজটি ঘর থেকে বের করতে গিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন দুই শ্রমিক।

মঙ্গলবার (২১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাগানবাড়ী এলাকার মেঘনায় সন্ধান চালিয়ে ডুবুরিরা শরিফুল নামে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরেক শ্রমিক মোস্তাক।

নিহত শরিফুল হবিগঞ্জের লাখাইগ্রামের রহমত আলীর ছেলে।

জানা যায়, গত রোববার সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ করেই ভাঙনের কবলে পড়ে বাগানবাড়ী এলাকার মেঘনার তীরে অবস্থিত রহমত রাইসমিল ও খাঁজা রাইস মিল। মুহূর্তের মধ্যেই নদীতে বিলীন হয় একটি অফিস ও লেবারদের দুটি বসতঘর। এ সময় ঘর থেকে ফ্রিজ বের করতে গিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয় শরিফুল ও মোস্তাক।

রহমত রাইস মিলের শ্রমিক সরদার নুরুল আমিন জানান, ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ দুজন শ্রমিকের সন্ধান দিতে পারেনি। পরে গৌরীপুরে মোতালিব মিয়ার ডুবুরি দলকে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে দেবে- এমন চুক্তি করেন। পরে তারা অভিযান শুরু করলে দুপুরের দিকে শরীফুলের মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান জানান, ফায়ার সার্ভিসের দল দুদিন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ দুজনের মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। তবে স্থানীয় একটি ডুবুরি দল মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

স্থানীয় ডুবুরি দলের সর্দার মোতালিব মিয়া বলেন, নিখোঁজ দুজনের মরদেহ উদ্ধারের জন্য মেঘনায় সকালে আমরা অভিযান চালাই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর দুপুরে একজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হই। মরদেহটি মাটিতে চাপা পড়েছিল। অপর শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, উজানের ঢল আর লাগাতার বৃষ্টিতে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা এত বেশি যে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসটুকুও সরিয়ে নেয়ার সুযোগও পায়নি। ঘরবাড়ি সহায় সম্বল হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে ভাঙন কবলিতরা।
চলতি বছর বন্যার শুরুতেই টাঙ্গাইলের কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর উপজেলায় তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন