হোম জাতীয় মেঘনার ভাঙন, ‘ভোটারবিহীন’ ইউনিয়নে নির্বাচন বুধবার

জাতীয় ডেস্ক :

ভোলার দৌলতখানে হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী বুধবার (১৫ জুন)। ভোটের সব ধরনের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে মেঘনার ভাঙনে প্রায় দেড় বছর আগে দৌলতখানের হাজিপুর ইউনিয়নটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। বিলীন হয়ে গেছে ওই এলাকার ভোটকেন্দ্রও।

তবে প্রার্থীরাও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা করছেন জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে; যা নির্বাচনী প্রচার- প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুরো ইউনিয়নর কোনো স্কুল-কলেজ বা ঘরবাড়ি না থাকায় ভোটগ্রহণ করা হবে দৌলতখান পৌরসভার একটি বিদ্যালয়ে। ভোটারবিহীন ইউনিয়নে কার স্বার্থে এ নির্বাচন তা নিয়েও রয়েছে নানা সমালোচনা। ইউনিয়নটির অবস্থা না জেনে নির্বাচন কমিশনের এমন আয়োজনে হতাশ সচেতন মহল।

এছাড়া নদী ভাঙনে ভিটেবাড়ি হারিয়ে এ ইউনিয়নের ভোটাররা বসবাস করছেন পুরো জেলাজুড়ে। অনেকে আবার কাজের সন্ধানে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বসবাস করছেন।

মেঘনার ভাঙনে প্রায় দেড় বছর আগে দৌলতখানের হাজিপুর ইউনিয়নটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি সব মেঘনার অথৈ পানির নিচে। এখানকার ৩ হাজার ৪৪০ ভোটারের সবাই বর্তমানে অন্য এলাকায় বসাবাস করছেন। সুযোগ সুবিধাও ভোগ করছেন সেসব এলাকার। জোয়ার ভাটায় প্লাবিত হয় এমন সামান্য কিছু জায়গা থাকলেও সেখানে শুষ্ক মৌসুমে গরু-মহিষ পালন করা হয়।

গত ২৫ এপ্রিল অস্তিত্বহীন এ ইউনিয়নে তফছিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। যার ভোটগ্রহণ আগামীকাল ১৫ জুন। ইভিএম এ ভোট গ্রহণ করা হবে দৌলতখান পৌরসভার সরকারি বালক বিদ্যালয়ে। এদিকে অস্তিত্বহীন এ ইউনিয়নের মানুষের সেবা করার জন্য চেয়ারম্যান পদে দুজনসহ মোট ৩৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি জন্য প্রার্থীরা জেলার অন্যান্য ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করছেন। পোস্টার টাঙানো হয়েছে মেঘনা পাড়ের অন্য ইউনিয়নে। যে ইউনিয়নের পোস্টার টাঙানোর জায়গা নেই সেই ইউনিয়নের ভোটের আয়োজন নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে জেলাজুড়ে।

ভোলা উন্নয়ন ও স্বার্থরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ অপু বলেন, যে ইউনিয়নে বসতি নেই, জমি নেই সেখানে কিসের উন্নয়ন করবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা? কার সেবা করবেন তারা? অস্তিত্বহীন একটি ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজন যথাযথ হয়নি। নিজেদের পক্ষে ভোট চাইলেও নির্বাচন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

আর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের আয়োজনের কথা জানালেন দৌলতখান উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবদুস সালাম খান। ভোট হবে ইভিএমে। পৌর এলাকায় ভোটের আয়োজনের বিষয়ে তিনি জানান, প্রার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দৌলতখান বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট নেয়া হবে।

জেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়দ সফিকুল হক জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ায় নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। বর্তমান অবস্থার একটি প্রতিবেদন নেয়া দরকার। তবে পৌরসভার মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দুজন, সাধারণ মেম্বার পদে ২৩ ও সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ১৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন