জাতীয় ডেস্ক:
জার্মানির মিউনিখে সিকিউরিটি কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এমন তথ্য জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীল সাথে বৈঠকের জন্য সময় চেয়েছেন জেলেনস্কি। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তাকে সময় দিয়েছেন।
বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিউনিখ সফর’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলেনস্কির সাথে বৈঠকের ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন বিষয়ে আমাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন আসছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবস্থান সবসময় পরিষ্কার। আমাদের অবস্থান হচ্ছে, আমরা সবসময় যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং আমরা চাই, পৃথিবীতে শান্তি ও স্থিতি যেন বিরাজ করে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকের জন্য সময় চেয়েছেন। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তাকে সময় দিয়েছেন। সেখানে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাই হবে।
এ বৈঠকের ফলে রাশিয়ার সাথে দূরত্ব তৈরি হবে কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলেনস্কির সাথে বৈঠকের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার সাথে সম্পর্কে হেরফের হওয়ার প্রশ্নই আসে না। রাশিয়া আমাদের অত্যন্ত বন্ধুপ্রতীম দেশ। রাশিয়া মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর আমাদের দেশ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি চট্টগ্রামে মাইন অপসারণের সময় রাশিয়ার একজন নাগরিক মৃত্যুবরণ করেন। সুতরাং রাশিয়ার সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ এবং ঐতিহাসিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সম্পর্কের বন্ধনে, আমরা আবদ্ধ হয়েছি, সেই বন্ধন অনেক দৃঢ়। সুতরাং রাশিয়ার সাথে সম্পর্কের হেরফের হওয়ার প্রশ্নই আসে না। বন্ধুপ্রতীম দেশ রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না এ বৈঠকে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী কতজন হবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেলিগেশন সংখ্যা আমি এখনও জানি না, তবে এটির আকার ছোট হবে কারণ প্রধানমন্ত্রী কমার্সিয়াল ফ্লাইটে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করব। বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পৃথিবীতে যে চলমান সংঘাতগুলো, সেগুলো বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বৈশ্বিক নিরাপত্তা যখন হুমকির মুখে পড়ে, তখন বৈশ্বিক স্থিতি, অগ্রগতি ও উন্নতি হুমকির মুখে পড়ে। সুতরাং বিষয়গুলো সেখানে আলোচিত হবে।
মিউনিখ কনফারেন্সে অস্ত্র কেনাবেচার বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের শিডিউলে এমন কিছু নেই। কেউ উপস্থাপন করবে কিনা আমরা এখনও জানি না।
এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে যোগদানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,
এ বছর বিশ্বের ৬০টি দেশের সরকারপ্রধান এ কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রভাবশালী দেশ জার্মানি। সেই সাথে একক দেশ হিসাবে জার্মানি বিশ্বে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং ইউরোপের সবচেয়ে বৃহত্তম রফতানি বাজার আমাদের। এছাড়াও বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ জার্মানি।
রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলায় জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং মানবিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায়, এ আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি জার্মান নেতাদের সাথেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সের উদ্বোধনী আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন এবং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিউনিখ সম্মেলনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি শেখ হাসিনা বেশ কয়েকজন সরকারপ্রধানসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এর মধ্যে জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন ও নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা।
এছাড়াও, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মানির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী সেভেনজা সুলজ, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ এবং মেটা গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা যায়। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী জার্মানিতে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনায়ও অংশগ্রহণ করবেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন জানান, আয়োজক সংস্থার সভাপতি রাষ্ট্রদূত ড. ক্রিস্টোফার হিউগেনের আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন বলে সদয় সম্মতি প্রদান করেছেন। মিউনিখ সিকিউরিটি সম্মেলন মূলত সমকালীন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার জন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতারা, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি ও বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে থাকেন।