আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রাশিয়া বলছে, মারিওপোল শহর এলাকা পুরোপুরি সাফ করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে শত্রুদের উৎখাত করা হয়েছে। অবরুদ্ধ বন্দর নগরটির একটি স্টিল কারখানায় কেবল ইউক্রেনীয় সেনাদের ছোট একটি কন্টিনজেন্ট রয়েছে।
আত্মসমর্পণে তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। রোববার (১৭ এপ্রিল) সেই সময়ও পার হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তারা আত্মসমর্পণ কিংবা অস্ত্র সমর্পণ করেনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান বলছে, শহরটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পথে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। তবে মারিওপোল থেকে সেনাদের পুরোপুরি উৎখাত করা হলে শান্তি আলোচনা বন্ধ হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছে ইউক্রেন।
বিদ্রোহকবলিত দোনবাস অঞ্চলের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি মারিওপোলে অবস্থিত। ক্রিমিয়ায় একটি স্থল করিডোর স্থাপন ও পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে রাশিয়া অভিযান চালালেও কিয়েভের সামরিক কারখানায়ও বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।
মারিওপোলের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে রাশিয়া। গেল ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই ও মানবিক বিপর্যয়ের দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে শহরটিতে। যদিও এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখতে পারেনি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
গত মাসে খেরসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দাবি করেছিল রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। এরপর দ্বিতীয় কোনো শহর হিসেবে মারিওপোল দখলে নিল তারা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান মুখপাত্র আইগর কোনাশেনকভ বলেন, মারিওপোলের শহুরে এলাকা পুরোপুরি শত্রুমুক্ত করা হয়েছে। ইউক্রেনীয়দের একটি অংশকে বর্তমানে অ্যাজোভাস্তল স্টিল প্ল্যান্টে আটকে রাখা হয়েছে।
একমাত্র অস্ত্র সমর্পণ করেই তারা প্রাণে রক্ষা পেতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রুশ মুখপাত্র বলেন, মারিওপোলে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৬৪ জন ইউক্রেনীয় সেনা আত্মসমর্পণ করেছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ’মারিওপোলে এখনো যুদ্ধ করা ইউক্রেনীয় সেনারা যদি স্থানীয় সময় সকাল ৬টার মধ্যে অস্ত্র সমর্পণ করে, তবে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। অ্যাজোভাস্তল স্টিল প্ল্যান্টে যে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা মাথায় রেখে মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। জাতীয়তাবাদী জঙ্গি ও বিদেশি ভাড়াটে খুনিদের শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছি।’
আইগর কোনাশেনকভ বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তারা প্রাণে বেঁচে যাবেন। স্টিল প্ল্যান্টে আশ্রয় নিয়ে তাদের বেঁচে থাকার কোনো আশা নেই, সেখানে কার্যত কোনো খাবার কিংবা পানি নেই।
শনিবার রাশিয়ার দেওয়া প্রস্তাব অনুসারে, অ্যাজোভাস্তল স্টিল প্ল্যান্টে থাকা প্রতিরোধকারীরা স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রেখে চলে যেতে পারবে। কিন্তু সেই প্রস্তাব নাকচ করেন তারা।
যদিও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলেছে, বন্দরের কাছের অঞ্চলে অভিযানের পাশাপাশি মারিওপোলে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে রুশ বিমান বাহিনী।
