প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, সাংবাদিকদের আহবানে চলমান একটি মানববন্ধন কর্মসূচী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধার মুখে বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন আল্টিমেটাম দিয়ে সোমবারের এই মানববন্ধন বন্ধ করে দেওয়ায় সাতক্ষীরার সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছেন এবং বলেছেন, মানববন্ধন কর্মসূচী চলতে না দেওয়া মত প্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।
সোমবার সাতক্ষীরা জেলা কালেক্টরেট চত্বরে বহুল প্রচারিত জনপ্রিয় দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকায় সন্ত্রাসীদের হামলা এবং পত্রিকাটির সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদকে খোজাখুজির প্রতিবাদ জানিয়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচীর ডাক দেওয়া হয়। দৈনিক কালের চিত্র’র পাঠক ফোরামের সভাপতি ডা. সুব্রত ঘোষের সভাপতিত্বে চলমান এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে যোগ দেন সাতক্ষীরার শীর্ষস্থানীয় প্রবীন সাংবাদিকরা।
তাদের মধ্যে ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম, সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াজেদ কচি, টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আহবায়ক আবুল কাশেম, দীপ্ত টিভির রঘুনাথ খাঁ, ডিসিবি টিভির জিল্লুর রহমান, বাংলা টিভির গোপাল কুমার মন্ডল এবং পত্রিকাটির সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের ৭ বারের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ।
অত্যন্ত সুশৃংখল এবং শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচী চলাকালে আকস্মিক জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসাবে একজন ম্যাজিস্ট্রেট(এনডিসি) এই মানববন্ধন বন্ধ করার নির্দেশ দেন। মাত্র ২ মিনিটের মধ্যে মানববন্ধন গুটিয়ে না নিলে উপস্থিত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। এ খবর প্রচারের সাথে সাথে মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক ও সংহতি প্রকাশকারী বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হতবাক হয়ে যান। পরে তারা জেলা প্রশাসনের প্রতি সম্মান রেখে কর্মসূচী সমাপ্ত করেন।
সাতক্ষীরা সাংবাদিক ঐক্য, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব ও টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, একটি পত্রিকা অফিসে পরপর দুবার হামলা হলো, সম্পাদককে হত্যার উদ্দেশ্যে খোজাখুজি করা হলো তারপরও এ বিষয়ে পুলিশ কোন মামলা গ্রহণ করেনি। উপরন্তু বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনার জন্য কালেক্টরেট চত্ত্বরে আহুত মানববন্ধন বন্ধ করে দিয়ে কার্যত সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
আমরা আরও জানাতে চাই, কালেক্টরেট চত্ত¡রে রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবি সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় কর্মসূচী পালন করা হয়ে থাকে। সাতক্ষীরার সামাজিক প্রেক্ষাপটে এবারই প্রথম জেলা প্রশাসন একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বাধা দিলো যা কখনও কাম্য নয় এবং এ ঘটনা গনতন্ত্রের পরিপন্থী। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক ঐক্য’র আহবায়ক সুভাষ চৌধুরী ও সদস্য সচিব শরীফুল্লাহ্ কায়সার সুমন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আহবায়ক ফারুক মাহবুবুর রহমান ও সদস্য সচিব আহসানুর রহমান রাজিব এবং টিভির জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আহবায়ক আবুল কাশেম ও সদস্য সচিব আমিনা বিলকিস ময়না।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতা অন্যরা হলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম, সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি, সাবেক সভাপতি এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, সাবেক সহসভাপতি আশেক ই এলাহী, সাপ্তাহিক সূর্যের আলো সম্পাদক ওয়ারেশ খান চৌধুরী পল্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল কুদ্দুস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শহিদুল হক রাজু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল জলিল, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সরোয়ার, দীপ্ত টিভির রঘুনাথ খাঁ, দৈনিক প্রবাহ্র এ্যাড. খায়রুল বদিউজ্জামান, ডিবিসি টিভির এম জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ নিউজের আব্দুস সামাদ, বাংলা টিভির গোপাল কুমার প্রমুখ সাংবাদিক।
