রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) :
যশোরের মনিরামপুরে ট্রাক্টর দিয়ে বানানো ট্রলিতে মাটি বহন করায় রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। মাটি বোঝায় হাইড্রোলিক ট্রলির চলাচলে সড়ক ফাঁটাসহ ডেবে গিয়ে বেহাল হয়ে গেছে। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। এসব ট্রলিতে সাধারণত মাটি পরিবহন করায় সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার। এমনকি ধুলা ও ট্রলির শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কপালিয়া, মশিয়াহাটি, নেহালপুর,টেকারঘাট, ভবদহ, কোনাকোলা, দত্তকোনা, মনোহরপুর, রোহিতা, ঢাকুরিয়া, শ্যামকুড়, খানপুর, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, চালুয়াহাটি, মনিরামপুর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাষাবাদের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টরকে ইটের ভাটার মাটি বহরের জন্য ট্রলি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিদিন এসব এলাকার বিভিন্ন গ্রাম্য সড়কে প্রতিদিন কয়েক শ’ বার ট্রলি চলাচল করে। এসব ট্রলি সড়কে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচল করে। যার কারণে উপজেলার সড়ক গুলো নষ্ট হয়ে বেহাল হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমির মাটি কেটে খালি জায়গা ভরাট এবং বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই প্রতিদিন মাটিবোঝাই বহু ট্রলি সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। ট্রলিগুলোর বেপরোয়া চলাচলে ধুলাবালু উড়ে রাস্তার পাশে থাকা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির ভেতরে ঢুকে। তবে ট্রলি চলাচল বন্ধ ও সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো সাড়া মেলেনি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
অন্যদিকে, সড়কে পড়া মাটির স্তুপগুলো বৃষ্টি হলে পরিণত হবে কাদায়। তখন কর্দমাক্ত সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। মাটির ট্রলির চলাচলের কারণে সড়কের এমন দুরবস্থায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের রোস্তম আলী মোল্লা জানান, কিছুদিন আগেই যে সড়ক ভালো ছিল। ট্রলি দিয়ে অনবরত মাটি বোঝাই করে আসা-যাওয়ার কারণে বড় ধরণের খানাখন্দ ও ফাঁটল সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই সড়কে পড়া মাটির স্তুপ গলে কাদাসহ পানি জমে যাবে।
রাস্তার পাশে এনামুল নামে এক দোকানি জানান, ধুলাবালুর কারণে মুখে মাস্ক দিয়ে চলতে হয়। ট্রলি ও মাটি কেনা মালিকেরা প্রভাবশালী হওয়ার তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
ট্রলিচালক রিপন হোসেন জানান, এই গাড়ি নিয়ে মাটি পরিবহন করার সময় প্রশাসন ও স্থানীয় চাঁদাবাজ শ্রেণির নেতাদের গোঁপনে টাকা দিতে হয়। আমরা ভাড়ায় মাটি বহন করি। যারা মাটির কেনে ও যাদের কাজে মাটি বহন করি তারা সব ঝামেলা ম্যানেজ করেন। ঝামেলা যাতে না হয়, আমরা ভাড়া নেওয়ার আগেই তাদের বলে নিই।
উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, এসব সড়ক দিয়ে মাটির ট্রলি চলাচল করতে দেওয়া যাবে না। কারণ এসব রাস্তার ধারণা ক্ষমতার চেয়ে মাটি বোঝায় ট্রলির ওজন বেশী। যে কারনে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন পলাশ জানান, এসব ট্রলির কোনো নিবন্ধন নেই। অবৈধ এসব যানে মাটি বা পণ্য পরিবহনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকায় সড়কে এ ধরনের যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি।
