মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুরে বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৪৫) হত্যায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে নিহতের পিতা তুষার কান্তি বৈরাগী বাদী হয়ে মঙ্গলবার মনিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৪। অপরদিকে এখন পর্যন্ত হত্যার কারণ জানতে পারেনি পুলিশ এবং হত্যাকাÐের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রানা প্রতাপ বৈরাগীকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। রানা প্রতাপ বৈরাগী যশোরের কেশবপুর উপজেলার আড়–য়া গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারে তাঁর একটি বরফ তৈরির কারখানা রয়েছে। কেশবপুর উপজেলার কাটাখালী বাজারে তাঁর একটি মাছের আড়ৎ রয়েছে। এ ছাড়া তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ নামের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত স¤পাদক ছিলেন। রানা প্রতাপ বৈরাগীর বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী (৬৪) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। চার বছর আগে তিনি অবসরে যান। রানা প্রতাপ বৈরাগীরা দুই ভাইবোন। বোনের বিয়ে হয়েছে। রানা প্রতাপের ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তুষার কান্তি বৈরাগী বলেন, রানার বরফকলের ব্যবসার পাশাপশি মাছের আড়তের ব্যবসা আছে। এ ছাড়া সে একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত স¤পাদক ছিল। সে গান বাজনা করতো। এলাকায় খুব জনপ্রিয় ছিল। গতকাল বিকেল তিনটার দিকে কপালিয়া বাজারের বরফকলে যাওয়ার কথা বলে সে মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে তাঁর মৃত্যু সংবাদ পাই। স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি ও পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে রানা প্রতাপ বৈরাগী মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে তাঁর বরফকলে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত তাঁকে বরফকল থেকে ডেকে কপালিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের গলিতে নিয়ে যায়। এরপর দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাঁর মাথায় গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ জানায়, নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগীর বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা এবং কেশবপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা রয়েছে। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যার কারণ এখনও উদঘাটন করা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ হত্যাকান্ডে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন। ওসি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাদন্তের পর যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ইমদাদুল হক বলেন, রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আশা করছি, আজকের মধ্যে এ হত্যার কারণ উদঘাটন সম্ভব হবে। এদিকে খুনিদের ধরতে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, ডিবি ও পুলিশের একাধিক টিম এক যোগে কাজ করছে বলে সূত্রমতে জানা গেছে।
