রিপন হোসেন সাজু, মণিরামপুর( যশোর) :
মণিরামপুরে ৩০ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ভোট পেয়েছেন হতাশাজনক। এ ৩০ জনের অধিকাংশ প্রার্থীর জনপ্রিয়তা একেবারেই তলানিতে। এসব প্রার্থীদের জামানত হারানো নিয়ে সাধারণ ভোটাররাও নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। তবে সব চাইতে হতাশাজনক ভোট পেয়েছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীরা।
জানা যায়, ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মণিরামপুর ১৬ ইউপিতে নির্বাচনী চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে লড়েছিলেন ৭৪ জন।
নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, খেদাপাড়া ইউনিয়ন থেকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান এসএম আতিয়ার রহমান ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৭৮, মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচন করেছিলেন। আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন সাইফুল ইসলাম। তিনি ভোট পেয়েছেন ৩০৬টি। এই ইউনিয়নে দুটি পাতা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আব্দুর রাজ্জাক ভোট পেয়েছেন মাত্র ৭৮টি।
কাশিমনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে হাতপাখা প্রতীকে খোরশেদ আলম ভোট পেয়েছেন ৪৯০টি, মোটরসাইকেল প্রতীকে ইউনুচ আলী ভোট পেয়েছেন ৯২৩টি।
ভোজগাতী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে আসমাতুন্নাহার ভোট পেয়েছেন ৩৭৪টি। তার এ ভোট পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানামুখী সমলোচনার ঝড় বয়ে চলেছে। ঢাকুরিয়া ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে চশমা প্রতীকে নির্বাচন করেন মোশাররফ হোসেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭১৮টি। এইক ইউনিয়নে (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী হাফিজুর রহমান ভোট পেয়েছেন ১৩৭টি।
হরিদাসকাটি ইউনিয়নে চশমা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নবিরুজ্জামান আজাদ ভোট পেয়েছেন ৩৫৭টি। একই ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী স্বপন সরকার ভোট পেয়েছেন ১৩টি। খেদাপাড়া ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত আজিবার রহমান চশমা প্রতীকে নির্বাচন করে ভোট পেয়েছেন ৪৫৫টি। মিজানুর রহমান ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৭টি। বিএনপি সমর্থিত মাহাবুবুর রহমান নাজিম মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৭৯টি।
ঝাঁপা ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে রুহুল কুদ্দুস ভোট পেয়েছেন মাত্র ৬২টি। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হুমায়ুন কবির ভোট পেয়েছেন ৫৭১টি। চালুয়াহাটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মেহেদী হাসান লাঙ্গল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৮০টি। খানপুর ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চশমা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৩৯৭টি। একই ইউনিয়নে মাহাবুবুর রহমান ভোট পেয়েছেন ২৬৬টি।)
কুলটিয়া ইউনিয়নে মনোহর মন্ডল মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৬৬টি। ঘোড়া প্রতীক নিয়ে এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদ হাসান সানি ভোট পেয়েছেন ৩৬টি। প্রভাষ ঘোষ চশমা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৬৭৫টি। তৌহিদ মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৮২১টি এবং নাজমুল হক লিটন পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮৮টি ভোট। নেহালপুর ইউনিয়নে মনোয়ার হোসেন ভোট পেয়েছেন ২৩৬টি। আওয়ামী লীগ বহিস্কৃত আনিচুর রহমান ভোট পেয়েছেন ৫৯টি।
মনোহরপুর ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করে সিরাজুল ইসলাম ভোট পেয়েছেন ১৩৭টি ও দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে আতাউর রহমান লাভলু চশমা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৮৪টি। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ঘোড়া মার্কা প্রতীকে নজরুল ইসলাম ভোট পেয়েছেন ১৭২টি। এছাড়া মিজানুর রহমান জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৬১টি।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে মোট কাস্টিং ভোটের শতকরা ৮ ভোট পেলে অথবা তার কম ভোট পেলে প্রার্থী তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবেন।
